এদিকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। দম ফেলানোর সময়ও পাচ্ছেন না প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। দিনরাত চলছে নানাভাবে প্রচারণা।
নির্বাচনে পুলিশি গণগ্রেফতার, নির্বাচন পরিচালনায় সমন্বয়ক কমিটি ও দু’দলের টানা বিতর্কে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। যেকোনও মুহূর্তে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন ভোটাররা। আর নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য রাজনীতিবিদদের সহনশীল আচরণ করতে হবে। নির্বাচনি আচরণবিধিমালা অনুযায়ী ১৩ মে মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা।
নির্বাচন ঘিরে নানা প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা মেট্টোপলিটন পুলিশ-কেএমপিও। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শহরে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও বহিরাগতদের আনাগোণা বন্ধ এবং যানবাহন চলাচল ও নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ সংক্রান্ত চারটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ূন কবির ৮ মে এ সব নির্দেশনা জারি করেন।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় নিযুক্ত করার কোনও বিধান নেই। এরপরও নির্বাচন পরিচালনায় একজন যুগ্ম-সচিবকে নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচন আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠ ছাড়া করতে গণগ্রেফতার ও হয়রানি করছে পুলিশ।’
১৪ দলের নেতা ও আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি যেকোনও উপায়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে। নির্বাচনকে নিরপক্ষে করতে কমিশন খুলনায় একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নির্বাচনি সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছে। এ নিয়েও বিএনপি মিথ্যাচার করছে।’
জানা যায়, কেসিসি নির্বাচনে শুরু থেকেই বিএনপি নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। এরমধ্যে দু’দফায় পুলিশ গ্রেফতার অভিযান চালালে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনায় নগর ও জেলায় বিএনপির ৯০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের সবাই নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় তারা সবাই জামিনে ছিলেন।’
এদিকে খুলনার রিটার্নিং অফিসারকে নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তির পর তাকে না সরিয়ে নির্বাচন কমিশন ২৯ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি গঠন করেছে। কমিশনের যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেন এই টিমের প্রধান সমন্বয়ক ও ডিএম শাহাদাৎ উদ্দিন উপ-প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করবেন।
কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৯ সদস্যর একটি একান্ত পর্যবেক্ষক টিম গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৩ মে থেকে এই টিম খুলনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে। তারা নির্বাচনকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করবেন।’
এ ধরনের কমিটি গঠনের আইনভিত্তিক সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা রংপুর ও গাইবান্ধার নির্বাচনেও ঘটেছে।’
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখার জন্য আমরা খুলনার রিটার্নিং অফিসারসহ জামায়াত ও বিএনপির ৩ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কমিশন তা না করে, একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে নির্বাচনি সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি তা নিয়েও মিথ্যা অভিযোগ করছে।’
বিএনপি যেকোনও উপায়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল বলেন, ‘খুলনার রিটার্নিং অফিসার ছাত্রদল নেতা ছিলেন, আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনও তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি। তাকে প্রত্যাহার করা না হলে কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘নির্বাচনে সমন্বয়ক হিসেবে একজন যুগ্ম সচিবকে দায়িত্ব দেওয়ার এক ধরনের যৌথ প্রশাসক বা ওভার লেপিং করার মতো বিষয়। এতে পূর্বে যিনি রিটার্নিং অফিসার ছিলেন, তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেন। আবার নতুন যিনি এসেছেন তিনিও খবরদারি করতে পারবেন না।’