সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তাপসী দাস বলেন, খুলনাসহ ৪ জেলা সড়কের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। একনেকে প্রস্তাব অনুমোদন হলেই মূল কাজ শুরু সম্ভব হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যশোর বিমানবন্দর ও ভারত থেকে খুলনায় আসা-যাওয়ার অন্যতম রুট খুলনা-যশোর মহাসড়ক। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ২০১৪ সালে যশোর অংশের ৩৮ কিলোমিটার মহাসড়কের সদরের মুড়লি মোড় থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়ক ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয় অভয়নগরের রাজঘাট থেকে নওয়াপাড়া পর্যন্ত ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অংশের সড়ক। কিন্তু অত্যন্ত নিম্নমানের পাথর ও বিটুমিন ব্যবহার করায় দুই বছরের মাথায় মহাসড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মহাসড়কের খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা সামাল দিতে চাঁচড়া বাজার মোড়, মুড়লি, বকচর, রাজারহাট, বসুন্দিয়া, চেঙ্গুটিয়া, নওয়াপাড়া লেভেলক্রসিং, ভাঙাগেট, রাজঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে ইট বিছিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ডালমিল, ঝিকরগাছা বাজার, গদখালী, বেনেয়ালি, নাভারণ বাজারসহ বিভিন্ন ভাঙা অংশ সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। এছাড়া আশাশুনি-গোয়ালডাংগা-পাইকগাছা সড়ক, কয়রা-নোয়াবাকি-শ্যামনগর সড়ক, কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়ক, তেরখাদা-বর্ণাল-কালিয়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বাসচালক মনির হোসেন জানান, ভাঙা রাস্তার কারণে এ সড়কে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। বড় বড় গর্তে আটকে পড়ে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ধীরগতিতে চলার কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে। ঝাঁকুনির ভয়ে অনেক সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যেতে চান।
গাড়িচালক এরশাদ হোসেন বলেন, খুলনা-যশোর মহাসড়কে ইট বিছিয়ে রাখার কারণে গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় থাকে সবসময়। বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল রহিম বক্স দুদু জানান, খুলনা-নওয়াপাড়া-যশোর ও যশোর-বেনাপোল সড়ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়। এসব সড়কে যানবাহন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব জানান, সংস্কারে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক বেহাল অবস্থায় রয়েছে। যানবাহনে চলাচলের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জর্জিস হোসাইন বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সব সড়ক-মহাসড়ক মেরামত করা হচ্ছে। যশোর-বেনাপোল সড়ক সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ। খুলনা-যশোর মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলছে।