সংবাদ সম্মেলনে নাজমুলের বাবা আলতাফ হোসেন, মা নাজমা খাতুন, বড় বোন ও সদ্য বিবাহিত স্ত্রী উর্মি খাতুন উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, হতাশা থেকে নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন। তবে কি কারনে নাজমুল হতাশ ছিল তা নিশ্চিত করেননি তিনি। আত্মহত্যায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানান পুলিশ সুপার।
গত মঙ্গলবার (২৯ মে) রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর ফারাজীপাড়ার নিজ ঘরে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল আলম গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার পর নাজমুলের মা নাজমা খাতুন ছেলের ঘরে একটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান ও একটি শটগানের গুলি দেখতে পান। ঝামেলা হতে পারে ভেবে এগুলো তিনি ব্যাগে করে বাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখেন। অস্ত্র দুটি অবৈধ। ঘটনার পর একটা তাজা গুলি উদ্ধার হয়েছিল। নাজমা খাতুনের দেখানো জায়গা থেকে অস্ত্র গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওয়ান শুটারগানেই নাজমুল আত্মহত্যা করেছেন। সেটার ভেতরে গুলির খোসা এবং রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুলের মা নাজমা খাতুন বলেন, গুলির শব্দে নাজমুলের ঘরে গিয়ে দেখি গুলিবিদ্ধ নাজমুল মেঝেতে পড়ে আছে। তখন নববধু উর্মি নাজমুলের পাশে কাঁদছিল। তিনি দাবি করেন ভয় পেয়ে দ্রুত অস্ত্রগুলো তুলে নিয়ে বাড়ির পাশে লুকিয়ে রাখেন তিনি।
এই ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। কোনও চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকা নাজমুল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নাজমুল ছিলেন সবার বড়। গত রবিবার পারিবারের সম্মতিতে শহরের কানাবিল এলাকায় ঊর্মি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি।