বারবিডার মুখপাত্র ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ব্যাংকে তারল্য (নগদ টাকা) সংকট দেখা দেওয়ায় গাড়ি ব্যবসায় স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাজেট ও ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা যে পরিকল্পনা করেছিলাম সেই ধরনের বাজারে কিন্তু কাস্টমার (ক্রেতা) নেই। এটাও আমাদের একটা হতাশার জায়গা।’
গাড়ি কম বিক্রির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টর থেকে গাড়ি বিক্রির জন্য যে সমর্থন পাওয়া দরকার, সেখানে একটা স্থবিরতা দেখতে পাচ্ছি। এজন্য ক্রেতারাও গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্তে হিমশিম খাচ্ছে।’
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষও বলছেন, গত পাঁচ মাসে বিদেশ থেকে গাড়ির আমদানি বাড়লেও সে হিসেবে এখান থেকে খালাস হচ্ছে কম। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি তারা।
বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী ট্রাফিক অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত গাড়ি আমদানি দ্বিগুণ বেড়েছে। তবে সে তুলনায় বন্দর থেকে আমদানিকৃত এসব গাড়ি খালাস করেননি আমদানিকারকরা।
তিনি বলেন, জানুয়ারিতে এ বন্দর থেকে দুই হাজার ৫৫, ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৬৯১, মার্চে এক হাজার ৩৫৪, এপ্রিলে এক হাজার ১২৬ এবং মে মাসে এক হাজার ১৬৬ টি গাড়ি খালাস হয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে ছিল টয়োটা করোলা, টয়োটা এক্স করোলা, টয়োটা এলিয়ন, প্রাডো, এফ প্রিমিও, নোয়াহ, হায়েস, প্রবক্স, ও নিশান গাড়ি।
বর্তমানে বৃহস্পতিবার (৭ জুন) পর্যন্ত মোংলা বন্দর জেটির বিভিন্ন শেটে (গোডাউন) পাঁচ হাজার ১৭৯টি গাড়ি রয়েছে বলে জানান তিনি।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর ফারুক হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০০৯ সালের ৩ জুন জাপান থেকে আমদানি করা ২৫৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি মোংলা বন্দর দিয়ে খালাসের মাধ্যমে প্রথম রেকর্ড গড়ে গাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হকস বে অটোমোবাইলস। তখন এ বন্দর দিয়ে গাড়ি খালাস প্রক্রিয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমসের আন্তরিক সহযোগিতা, খরচ চট্টগ্রামের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ হওয়ায় এবং শেডের ভেতরে নিরাপদে গাড়ি রাখার সুবিধা আমদানিকারকদের আকৃষ্ট করে। এসব সুবিধার কারণে হকস বে অটোমোবাইলসহ একাধিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এ বন্দরের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এরপর থেকে মোংলা বন্দরে আমদানি ও গাড়ি খালাসের পরিমাণ বাড়তে থাকে বলে জানান তিনি।
বারবিডার সভাপতি হাবিবুল্লা ডন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাজেট ও ঈদকে সামনে রেখে যে পরিমাণ গাড়ি খালাস হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। এজন্য তাদের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে। ব্যাংকপাড়ার অস্থিরতাই আমাদের ভোগাচ্ছে।’