নড়াইলে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া ধর্ষণের শিকার, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নড়াইল সদর উপজেলার সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দলবেঁধে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তার পুরুষ সঙ্গীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। ভুক্তভোগী মেয়েটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ব্রাহ্মণীনগর গ্রামে অবস্থিত তার নানাবাড়িতে থাকে। বুধবার (২০ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ৩ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো হবখালী ইউনিয়নের সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামের আজাদ মিনার ছেলে রফিকুল মিনা (৩০), হালিম মিনার ছেলে শাহজালাল মিনা (২৩) এবং আজগর মিনার ছেলে মাসুম মিনা (২৫)।গণধর্ষণ

মামলার বিবরণ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ জুন) ছেলে বন্ধুর সঙ্গে যশোর থেকে নড়াইলে আসছিল অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে নড়াইলের হবখালী আদর্শ কলেজের কাছে অটোবাইক থেকে নেমে পড়ে তারা। রাত ৯টার দিকে এলাকার মাসুমের দোকানের কাছাকাছি এলে ৮-৯ জন যুবক তাদের পথরোধ করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের হবখালী বাজারের দিকে যাওয়ার জন্য জোর করে তারা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত রফিকুল মিনা, শাহজালাল মিনা ও মাসুম মিনা হবখালী কলেজ এলাকায় ছেলেটিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং মেয়েটিকে পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তাদের নির্যাতনে ওই ছাত্রীর বুক, মুখ ও হাতের বিভিন্ন অংশ জখম হয়।

প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে নিপীড়ন চালানোর পর অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। যাওয়ার সময় এ বিষয়ে কাউকে কিছু না জানানোর হুমকিও দিয়ে যায় তারা। রাত ১২টার দিকে নিপীড়নে অসুস্থ হয়ে পড়া ওই ছাত্রীটিকে পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করে সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী ও তার ছেলে বন্ধুকে নড়াইল সদর থানায় নিয়ে যায়। সদর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।