নিখোঁজের তিনদিন পর খুলনা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, প্রেমিকা আটক

নড়াইল

 

নড়াইলের কালিয়া থেকে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচদিন পর সোমবার বিকেলে খুলনা নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় উপজেলার লাঙ্গুলিয়া গ্রাম থেকে নিহতের প্রেমিকাকে আটক করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় আটকের পর পুলিশ মরিয়ম খাতুন নামের ওই তরুণীকে খুলনা সদর থানায় পাঠিয়েছে।

নিহত যুবকের নাম ইনসান মোল্যা (২৭)। সে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী গ্রামের ইঞ্জিল মোল্যার ছেলে। এ ঘটনায় আটক প্রেমিকাকে আসামি করে খুলনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের ভাই চাঁচুড়ী ইউপি সদস্য তৌরুত মোল্যা জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার (২১ জুন) সকাল আটটার দিকে তার ভাই চাঁচুড়ী বাজারে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে শুক্রবার (২২ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালিয়া থানায় এ ব্যাপারে তার বোন আরিফা বেগম একটি জিডি করেন। যার নং-৭৯৯। এরপর সোমবার (২৫ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একটি অপরিচিত ফোন নাম্বার ০১৬৩৩৭৯৪১৭৬ থেকে তৌরুতের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ০১৭৩২৭৭৭২৮৮- কল করে ইনসানের মুক্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দাবিকারীদের কথামত তিনি খুলনায় গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। পরে সোমবার বিকেলে খুলনায় কর্মরত তৌরুতের গ্রামের এক পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে হোটেল আজমল প্লাজায় (পিকচার প্যালেস মোড়) একটি অজ্ঞাত লাশ পাওয়া গেছে এমন খবর শুনে তিনি সেখানে গিয়ে ইনসানের লাশ শনাক্ত করেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৩ জুন) এক যুবক ও এক তরুণী নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ের হোটেল আজমল প্লাজার পঞ্চম তলার ৫০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। সোমবার দুপুরে খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করে। যুবকের দুই হাত-পা বাঁধা এবং মুখ ও পুরুষাঙ্গ আগুনে ঝলসানো অবস্থায় ছিল। তবে হোটেল রেজিস্টারে তাদের কোনো নাম-ঠিকানা, তথ্য লিপিবদ্ধ নেই। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল মালিকের ছেলে ও ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার লাঙ্গুলিয়া গ্রামের আ. কালাম বিশ্বাসের মেয়ে মরিয়ম খাতুন গত বছর ১১ ডিসেম্বর নিহত ইনসান মোল্যাকে স্বামী দাবি করে কালিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/০৩)-এর ৯(১) ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ইনসানের সঙ্গে মরিয়ম খাতুনের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটের মাধ্যমে উভয়ই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। এরপর একই বছর ২ অক্টোবর ভারতে গিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন। কিন্তু গ্রামে ফিরে এসে ইনসান তাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিয়ে গত বছর ২২ নভেম্বর পারিবারিকভাবে অন্য আরেকজনকে বিয়ে করেন। এরপর ১১ ডিসেম্বর নিহত ইনসান মোল্যাকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করলে তিনি (ইহসান) কারাভোগের পর বর্তমানে জামিনে ছিলেন।

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী জানান,‘কালিয়া থেকে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নিহতের ভাই তৌরুত মোল্যা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় মরিয়মের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলায় মরিয়ম খাতুনকে আটকের পর খুলনা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।