লবণাক্ত এলাকায় উফশি জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ

ধান ক্ষেত, ফাইল ছবিউপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় স্থানীয় জাতের (লাল ও সাদা মোটা) ধানের পরিবর্তে উফশি জাতের (ব্রি ধান ৭৬ ও ব্রি ধান ৭৭) ধানের জাত চাষাবাদ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, উফশি জাতের ধানের ফলন হেক্টর প্রতি সাড়ে চার থেকে ৫ টন। যা স্থানীয় জাতগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ। তাই এই ধানের আবাদ করলে লাভবান হবেন চাষিরা। এরই মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ব্রি ধান ৭৬ ও ব্রি ধান ৭৭ ধানের জাতের ধানের বীজ বিনামূল্যে চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২ জুলাই) রামপাল উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে ৮০ জন কৃষকের মাঝে ৪০০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়। বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফতাব উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বীজ বিতরণ করেন। একই পরিবেশে বেশি  ফলনশীল,  রোগবালাই ও লবণ সহিষ্ণু এই জাতের ধানের আবাদ ঠিকভাবে করতে পারলে আগামী বছর এই ধান উপজেলার সব চাষির হাতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে স্থানীয় জাতের বিলুপ্তি ঘটবে এমন ধারণা করছেন সংশিষ্টরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন,কৃষিমন্ত্রীর নির্দেশনায় উফশি জাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রামপাল উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এই বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। উপকূলীয় উপজেলা রামপালের যে জমিতে স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ করা হতো সেখানে উফশি জাতের আবাদ করলে ধানের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পবে। এবছর পরীক্ষামূলকভাবে কিছু জমিতে এই দুটি ধানের আবাদ করা হয়েছিল। ওইসব জমিতে ধান দুটির বাম্পার ফলন হয়েছে।

চাষিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উফশি জাতের ফলন স্থানীয় জাতের থেকে দেড় থেকে দুইগুণ। এই জাতের ধান স্থানীয় জাতের থেকে চিকন হওয়ায় এর বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি। আগামী আমন মৌসুমে  বিনামূল্যে বীজ পাওয়া এই ৮০ জন কৃষকের মাধ্যমে গোটা রামপালের সব কৃষকের মাঝে এই জাতের ধান ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই প্রত্যাশা কৃষি কর্মকর্তাদের।