কারিমা বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার (কাজীর বস্তি) শেখ আইয়ুব আলীর মেয়ে। অন্যের জমিতে ঝুপড়ি বানিয়ে থাকে তারা। মাসে মাটির ভাড়া দিতে হয় ৩০০ টাকা। হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত কারিমার বাবা। কাজ করতে পারেন না। তার মা পরের বাসায় কাজ করে ৪ জনের সংসার চালান। মাকে সাহায্য করার জন্য সেও কাজ করে। অভাব-অনটনের কারণে কুপির তেল ঠিকমতো কিনতে না পারায় রাতের পড়া সূর্যের আলোতে পড়তে হয় কারিমাকে। এভাবে পড়েই এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল সে। কারিমার ইচ্ছা উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এ ব্যয় বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়
প্রতিবেশী লিলি বেগম বলেন, ‘এই এলাকায় সবাই গরিব। কারিমার বাবা অসুস্থ, মা পরের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। মেয়েটা শুনেছি লেখাপড়ায় খুব ভালো।’
বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক কুলছুম বেগম বলেন, ‘অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মেয়েটি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। ওকে একদিন ওর মায়ের সঙ্গে ইট ভাঙতে দেখে আমার চোখে পানি এসে যায়। এরপর থেকে ব্যক্তিগতভাবে তাকে মাঝে মধ্যে সহায়তা করার চেষ্টা করি। মেধাবী এই মেয়েটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়। কিন্তু ওদের বাগেরহাট থেকে ঢাকায় যাওয়ার সামর্থ্য নেই। যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসেন তবে কারিমার স্বপ্ন সফল হতে পারে।’
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রীনা তালুকদার বলেন, ‘এসব হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত। তাহলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদে পরিণত হবে।’
কারিমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তার পরিবার। আর্থিক সহায়তার জন্য তাকে অনুরোধ জানিয়েছে। এজন্য ব্যাংকে একটি হিসাব নম্বরও খোলা হয়েছে। সেটি হলো, কারিমা খাতুন, হিসাব নং এসএমএসএ ৪৮৭, ইসলামী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখা।