দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা হচ্ছে কুষ্টিয়ায়

 

গরুর জন্য খড় কাটা হচ্ছেক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন কুষ্টিয়ার খামারিরা। তবে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং গতবার লাভ কিছুটা কম হাওয়ায় এবার খামারে গরু পালন কমেছে।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলায় আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতি উপজেলায় মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি হাটে এই মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। পশুর রোগ প্রতিশোধক ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রয়েছে। খামারি এবং কৃষকদের মাঝে চাহিদামত তা ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, ‘কুষ্টিয়াতে এখন গরু মোটাজাতাকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করা হয় না। আমরা প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণে সারা বছর প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিলি করে আসছি।’

খামারে খড় খাচ্ছে গরুকুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের গরু খামারি সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এই এলাকায় বেশিরভাগ খামারি  দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস ও খড়ের পাশাপাশি খৈল গুড়া, ভূষি খাওয়ানো হচ্ছে। তাছাড়াও ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় গরুর চাহিদা থাকায় খামারিদের পাশাপাশি অনেক কৃষক পরিবারও গরু মোটাতাজা করেছ।’ তিনি আরও আরও বলেন, ‘গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গরুতে লাভ কিছুটা কমে গেছে। গতবার চারটি গরু বিক্রি করে প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর কোরবানি উপলক্ষে ৭টি গরু মোটাতাজা করছি। আশা করি এবারো ভালো দাম পাব।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল এলাকার কৃষক সলিম হোসেন জানান, গত বছর তিনটি গরুতে প্রায় ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। গরু তিনটি উৎপাদনে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করতে হয়েছে দেড় লাখ টাকায়। গত ঈদের শেষ মূহুর্তে গরুর দাম কমে যাওয়ায় এই লোকসান গুণতে হয়।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাজী ফার্মসের মালিক কাজী শওকত জানান, গত ঈদে তার খামারে পশু ছিল ১৮০টি। এবার উৎপাদন কমে পশু সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০টি। এরমধ্যে ৬টি সাদা মহিষ এবং ৪০টির মত ছোট ভুটানি গরু রয়েছে। বাকি সব দেশি গরু।

খামারে গরুর পরিচর্যাজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ২০হাজার ১১০টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৮০ হাজার ১৩৯টি গরু, ৬৪ হাজার ১৮২টি ছাগল এবং ৩ হাজার ১২১টি ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৪৮৩টি খামার রয়েছে। এখানে ১২হাজার ৩৮৭টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও কুমারখালি উপজেলায় ৪ হাজার ৯৪টি খামারে ১৩ হাজার ২৭৬টি গরু, মিরপুর উপজেলায় ২হাজার ৯৭২টি খামারে ১৪হাজার ৯১টি গরু, খোকসা উপজেলায় ৩ হাজার ১২৯টি খামারে ৯ হাজার ১৪৯টি গরু, ভেড়ামারা উপজেলায় ৯৯২টি খামারে ২হাজার ৪৫৯টি গরু এবং দৌলতপুর উপজেলায় ৪হাজার ৪৪০টি খামারে ১৪ হাজার৭৯টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। গত বছর কোরবানি উপলক্ষে কুষ্টিয়া অঞ্চলের ২০ হাজার ৬৮৬টি খামারে ৯২ হাজার ৭৪১টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছিল।