নির্বাচনি পরিক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা জানান, বুধবার (১ আগস্ট) সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ পরীক্ষায় ৫ জন অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষার সময় প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইন বিভিন্ন প্রার্থীদের খাতা দেখে অপু রানী দাসকে লিখতে সহায়তা করেছেন। এসময় অন্য প্রার্থীরা বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ দাসকে জানালে তিনি এটি না করার অনুরোধ জানান। তবে তিনি সেই অনুরোধ শোনেননি না।
পরীক্ষার্থী বাবুল কুমার চন্দ শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের অস্বাভাবিক আচারণে আমরা মর্মাহত হয়েছি। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, তিনি তার পছন্দের প্রার্থী অপু রানী দাসকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছেন। নিয়োগ বোর্ডের কয়েকজন সদস্য মিলে আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে অপু রানী দাসকে প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।’
আরেক প্রার্থী পলাশ ঘরামী বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার সময় আমার খাতার উচ্চতর গণিতের উত্তরগুলো প্রধান শিক্ষক দেখে গিয়ে অপু রানী দাসকে সহায়তা করেছেন। আমি বারবার নিষেধ করলেও তিনি শোনেনি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন প্রধান শিক্ষক। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি নিরপেক্ষ পরীক্ষা হলে ওই প্রার্থী থেকে আমি অনেক বেশি নম্বর পাবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অপু রানী দাস বলেন, ‘আমাকে কেউ সহায়তা করেনি। তিন মাস ধরে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়েছি।’
প্রধান শিক্ষক বিধান চন্দ্র গাইন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অপু রানী দাস সবচেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন। এখানে কোনও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি বিনয় কৃষ্ণ গাইন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান ধরে রাখতে আমরা চেয়েছি একজন যোগ্য শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার পছন্দের প্রার্থী অপু রানী দাসকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্নপত্র আগে থেকেই ফাঁস করে অপু রানী দাসকে প্রস্তুতির সুযোগ দিয়েছেন। পরীক্ষার আগে তাকে তিনদিনের ছুটি দিয়ে এসব প্রশ্নের ওপর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। বিষয়টি জানান পর আমি নিয়োগ পরীক্ষার কোনও কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিনি। বিদ্যালয়ের সুনাম ধরে রাখতে একজন মেধাবী শিক্ষককেই সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া খুবই প্রয়োজন।’