নিহত তরিকুলের স্বজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেন, তরিকুলকে হত্যা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে পুলিশের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে, পুলিশ তা অস্বীকার করে বলছে, যশোর পুলিশ এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না।
নিখোঁজের পাঁচদিন পর যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার যুবলীগনেতা তরিকুল ইসলামের (২৮) লাশ বুধবার (৮ আগস্ট) সকালে উদ্ধার হয়। নড়াইল সদরের সীতারামপুর ব্রিজের কাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করে নড়াইল পুলিশ।
নিহত তরিকুলের মা জাহানারা বেগম জানান, গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যার দিকে বাঘারপাড়ার জামদিয়া হাটখোলা এলাকায় তাদের সার-কীটনাশকের দোকান বর্ষা ট্রেডার্স থেকে ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়। বাঘারপাড়া ও যশোর কোতয়ালি থানাসহ বিভিন্ন অফিসে খোঁজ নিয়েও তরিকুলের খোঁজ পাওয়া যায় না। আমার ছেলে কোনও সন্ত্রাসী ছিল না। ছেলে যদি কোনও অন্যায় করেও প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার করা যেতো।’
তরিকুলের বাবা মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,‘আমার ছেলেকে আর ফিরে পাবো না। তবে আমার ছেলেকে যারা গুলি করে মারলো আমি তাদের বিচার চাই।’
তরিকুল একজন ভাল সংগঠক ছিলেন উল্লেখ করে রাজিব রায় বলেন, ‘আমরা বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘পাঁচদিন আগে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তরিকুলকে তুলে নিয়ে যায়। আজ তার লাশ উদ্ধারের পর আমরা অবাক হয়েছি।’
যশোর- ৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য রণজিত রায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘ লাশ গোসল করানোর সময় তার হাতে হ্যান্ডকাফের দাগ দেখা গেছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় ওসির পরিকল্পনায় এসআই দেবাশীষ ও এসআই শাহ আলম তরিকুলকে তুলে নিয়ে যান। তখন নড়াইলের আইনশৃংখলা বাহিনীর কিছু সদস্য উপস্থিত ছিল। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করতে গেলেও ওসি তা না নিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেন। যশোরের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জিডি নিতে বললেও বাঘারপাড়া থানা সেই জিডি নেয়নি।’
তবে, সংসদ সদস্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বুধবার সন্ধ্যায় বাঘারপাড়া থানার ওসি মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘সংসদ সদস্য যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ অবাস্তব, মিথ্যা। গত ৩ আগস্টের ঘটনায় মাননীয় সংসদ সদস্য যে অফিসারদের দায়ী করছেন আমি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে জিডি নিতে বললে আমি কেন জিডি নেব না?
ওসি আরও জানান, তরিকুলের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের একটি মারামারির মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে।
তরিকুল বাঘারপাড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জামদিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।