নড়াইলে হাটে ওঠার অপেক্ষায় ৩১ হাজার পশু

নড়াউল পৌরসভার দুর্গাপুর এলাকার একটি খামারকোরবানির জন্য নড়াইলে ৩১ হাজার পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশীয় পদ্ধতিতে পশুগুলো মোটাতাজা করা হয়েছে। বর্তমানে জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত গরুর খামার রয়েছে ৩৯৫টি ( কোন কৃষকের তিনটি গরুর বেশি থাকলে একটি খামার ধরা হয় )।

জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে,  দেশীয় পদ্ধতিতে চাষিরা গরু মোটাতাজা করেন। তাই এই জেলার গরুর চাহিদা বেশি।

জেলায় ৫৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা আর বাকি ৪৫ ভাগ গরু মোটাতাজা করছেন জেলার সাধারণ কৃষকেরা।

সদরের বিছালী গ্রামের কৃষক আকরাম ও রহমত হোসেন জানান, কোরবানি ঈদের ৬-৭ মাস আগে দেশি প্রজাতির প্রতিটি বাছুর ১৫-২০ হাজার টাকায় কিনে পালন করতে থাকেন। সারাবছর খাবার হিসাবে বিল থেকে কাঁচা ঘাস কেটে এনে খাওয়ানো হয় এবং ঈদের দু্ই মাস আগে খড়, খৈল, কুড়া ও ভুষি খাওয়ানো হয়। বছরের অধিকাংশ সময় বিলের কাঁচা ঘাষ খাওয়ানো হয়। এই ঘাস কিনতে হয় না, তাই খরচ অনেক কম। একটি বাছুর ১৫-২০ হাজার টাকায় কিনে ৬-৭ মাস পালনের পরে ঈদের সময় আকার ভেদে ৪০- ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। আকারভেদে প্রতিটি গরু থেকে ৩০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা যায়।

লোহাগড়া উপজেলার গন্ডব গ্রামের খামারি জিল্লাল শেখ জানান, ১০ বছর আগে থেকে তারা গরু মোটাতাজা করে আসছেন। গত বছর ভারতীয় গরু নড়াইলে কম এসেছিল। তাই দেশি গরুর চাহিদা ছিল অনেক বেশি। তারা ভালো দামে বিক্রি করতে পেরেছিলেন।এ বছরও খামারে গরুর সংখ্যা বাড়িয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: কোরবানির পশু আমদানি না করার আহ্বান নওগাঁর খামারিদের

নড়াইল সদরের মির্জাপুর গ্রামের কৃষক আমানউদ্দিন শেখ জানান, প্রতি বছরই তিনি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকেন। ৪ মাস আগে ৮২ হাজার টাকা দিয়ে চারটি এঁড়ে বাছুর কিনে পালন করছেন।

নড়াইল জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মারফি হাসান জানান, বছর দশেক আগে নড়াইলের চাষিরা অল্প পরিসরে গরু মোটাতাজা শুরু করেন। সে সময় থেকেই খামারি ও কৃষকেরা লাভবানও হয়েছেন বেশ। তাই এবছরও অনেক কৃষক গরু মোটাতাজা করতে আগ্রহী হয়েছেন। আমরা সরকারিভাবে তাদেরকে ৪৫-৫০ ভাগ ওষুধ ফ্রি দিয়ে  থাকি। কৃমির ওষুধ ও ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হয়েছে। কৃষক ও খামারিদের কয়েকবার করে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এবছরও জেলার খামারি ও কৃষকেরা লাভবান হবেন।

আরও পড়ুন: ‘ভারতীয় গরু এলে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়বে’

জেলা প্রাণি সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩০ হাজার গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেন জেলার খামারি ও কৃষকেরা। এই বছর ৩১ হাজার পশু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। এরমধ্যে ২৩ হাজার ৪শ গরু আর ৭ হাজার ৬শ ছাগল। এবছরও তিনটি উপজেলার মধ্যে নড়াইল সদরে বেশি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।