নাটোরে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে এএসআই ক্লোজড

 

ক্লোজ এএসআই আবুল কালামনাটোর সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নে মাদক উদ্ধারে আসামিকে ধরতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে এক এএসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি জালাল উদ্দিন।

তদন্তসাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড শিবপুর গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী জানান, তিনি ঢাকার কোরবানির হাটে তিনটি গরু বিক্রি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এনে বাড়িতে রেখেছিলেন। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে কয়েকজন লোক এসে তার বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেয়। এ সময় ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাইলে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে গেট খুলতে বলা হয়। ওই সময় কৃষক আইয়ুব, তার স্ত্রী, ছেলে ও ছোট মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। দরজা খুলতেই দেখা যায় নাটোর সদর থানার এএসআই আবুল কালাম ফোর্স নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার বাড়িতে ইয়াবা রাখা আছে দাবি করে এএসআই কালাম স্ত্রী ও মেয়েসহ আইয়ুবকে একটি ঘরে আটকে রেখে তার ছেলে মাসুদ রানাকে পেটাতে শুরু করে। ‘বাবা (ইয়াবা) কই’ বলে মারতে মারতে মাসুদকে বাড়ির দরজার সামনে আনেন এএসআই কালাম। এর ফাঁকে আইয়ুব আলীর ঘরে ঢুকে আলমারির ভেতরে থাকা ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয় পুলিশের তিন সোর্স। পরে মাসুদকে মারতে মারতে বাড়ির বাইরে আনলে তার চিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের হাত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এরপর পুরো ঘটনা জানাজানি হলে উত্তেজিত জনতা জড়ো হয়ে পুলিশ ও অজ্ঞাত একজনকে ধরে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে সদর থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে।

আইয়ুব জানান, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এমরান আলীর ইন্ধনে পুলিশ তার বাড়িতে ঢুকে এই তাণ্ডব চালায়। ঘটনার পর ইউপি সদস্য এমরান আলীকে থানায় নেওয়া হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ও ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের চাপের মুখে তাকে কয়েক ঘণ্টার পরেই ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য এমরান আলী বলেন, ‘পুলিশ গত রাতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে ছাতনীতে গিয়েছিল। আইয়ুবের ছেলে মাসুদ একজন ইভটিজার। তাকে সতর্ক করার জন্য পুলিশ গিয়েছিল। তবে এই ঘটনায় তার কোনও ইন্ধন নেই বলে দাবি করেন তিনি।

ছাতনী ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন, ‘আমার পরিষদের সদস্য এমরানকে পুলিশ থানায় নিয়েছে জেনে সেখানে গিয়েছিলাম। বিষয়টি আগামীকাল সোমবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।’

এ ব্যাপারে ওসি কাজী জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনও অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি জালাল উদ্দিন দাবি করেন, ‘আসামি ধরতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের দায়ে কালামকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

নাটোরের পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।