৩৪ বছর আগে ফকিরহাটের পিলজঙ্গ এলাকায় ৮০ একর জমিতে প্রজনন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ নেই। তাই, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হয়।
ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, মহিষের বংশ বিস্তারের জন্য মোররা প্রজাতি ছাড়াও পাকিস্তানের লিনিরাহি প্রজাতির মহিষের সিমন এনে প্রজনন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে আগ্রহী কৃষকদের মধ্যে বাজারদরের চেয়ে অর্ধেক দামে ১শটি এঁড়ে মহিষ বিক্রি করা হয়েছে। এ প্রজনন কেন্দ্রে পশুর খাবারের জন্য বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তিনি জানান, উৎপাদিত দুধ প্রজনন কেন্দ্র থেকে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পূর্ণ বয়স্ক মহিষ প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৪ কেজি থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়। দিনে একবার করে দুধ দোয়ানো হয়।’
জানা গেছে, মহিষ প্রজাতির বংশ বিস্তার, মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণে এ প্রতিষ্ঠান শুরুতেই ১শ মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। গত ৩৪ বছরে এখানে মহিষের সংখ্যা ৫৪০টি। প্রতি বছর ৭৫ থেকে ৮০টি বাচ্চা হয়। ইটালিয়ান মোররা প্রজাতির মহিষ এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক গড়ে আড়াইশ লিটার দুধের যোগান দেয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। মহিষ প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখতে, মাংস ও দুধের ঘাটতি পূরণে গড়ে ওঠে মহিষ প্রজনন কেন্দ্র। ভোলা, চরফ্যাশন, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, হাতিয়া উপজলা, লক্ষ্মীপুর, যশোরের কেশবপুর, বাগেরহাটের ফকিরহাট, চিতলমারি, শরণখোলা, খুলনার ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া, ফুলতলা, তেরখাদা, সাতক্ষীরার দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও শরীয়তপুর ইত্যাদি স্থান থেকে শুরুতে ১শ মহিষ এখানে আনা হয়।