রবিবার(২ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল বন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ট্রাফিক) পরিচালক আমিনুল ইসলাম মালামাল ফেলে রাখার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের বন্দরের রফতানি টার্মিনালের পাশ দিয়ে ব্যস্ততম টু লেনের রাস্তার দুই পাশেই ৪টি লাইন করে রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখা হয়েছে অশোক লিলেন, টাটা ও আইসার কোম্পানির ট্রাক চ্যাসিজ মালামাল। এতে রাস্তার এক অংশে সম্পূর্ণভাবে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, অশোক লিলেনসহ কয়েকটা কোম্পানি সম্প্রতি ট্রাক চ্যাসিজ আমদানি বাড়িয়েছে। তবে এসব মালামাল মাসের পর মাস বন্দরের বাইরে মহাসড়কের ওপর, বাইপাস সড়কের পাশে, ভারত-বাংলাদেশ ইন্টিগেটেডে রাস্তার পাশে এবং ট্রেন লাইনের পাশ দিয়ে অনিয়ম করে রেখে দেওয়া হচ্ছে। রেখে দেওয়া মালামাল বন্দর থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা ।
অশোক লিলেন কোম্পানির সি অ্যান্ড এফ প্রতিনিধি ফয়সাল এন্টার প্রাইজের চ্যাসিজ তত্ত্বাবধানকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বন্দরের মধ্যে মালামাল রাখার কোনো জায়গা নেই। তাহলে এসব পণ্য রাখব কোথায়। এতে করে আমাদের পণ্যও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।’
ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন সমস্যায় ব্যবসায়ীরা দিন দিন এ পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে রাজস্ব আয়েও ঘাটতি পড়ছে। ’
বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় আমদানিকারকদের জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনোভাবে শুনছেন না। আইন প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন,বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে।’
বেনাপোল কাস্টমসের কার্গো সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা চ্যাসিজগুলো দ্রুত খালাস নেওয়ার ব্যাপারে তারা বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ীদের চাপও সৃষ্টি করছেন।’
বেনাপোল বন্দরের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক)আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে মহাসড়কের ওপর থেকে যাতে পার্কিং উঠে যায় সেই বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’