দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আতিয়ার রহমান শেখ জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে ২শ’ টাকা সিভিল সার্জন বা স্বাক্ষরদাতা এবং বাকি ৫০ টাকা অফিস স্টাফরা নেয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। রবিবার সিভিল সার্জন ছুটিতে থাকায় এ টাকা তিনি নিজেই গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি এ টাকা নেওয়ার জন্য রশিদ বা বৈধতা দেখাতে পারেননি।’
দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে মেডিক্যাল সনদ প্রত্যাশীদের বিনামূল্যে সনদ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মেডিক্যাল সনদ বাবদ কোনও অর্থ যেন গ্রহণ করা না হয়। অথবা নিলেও কত টাকা, কিসের বিনিময়ে সেটি অফিসের সামনে লিখে রাখা এবং রশিদ ছাড়া কোনও অর্থ লেনদেন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ অন্যান্য অফিসেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আতিয়ার রহমান শেখ বলেন, ‘আমি ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগদানের সময় থেকেই দেখে আসছি সিভিল সার্জনরা ফিটনেস সার্টিফিকেট বাবদ ২৫০ টাকা করে নেন। তবে, এর সরকারি কোনও নির্দেশনা নেই। বিনিময়ে রশিদও দেওয়া হয় না।’ রবিবার ১৪-১৫ জনকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুদক সমন্বিত খুলনা জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ যাত্রীদের মেডিক্যাল সনদ প্রদান বাবদ খুলনার সিভিল সার্জন অফিসে জনপ্রতি ১৫শ’ থেকে ২ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে দুদক সদর দফতরে অভিযোগ ছিল। ওই অভিযোগের পর সদর দফতরের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মুখে আর টাকা নেওয়া হবে না- বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. শাওন মিয়া। উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন, উপ-সহকারী পরিচালক নীল কমল পাল ও উপ-সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ।