নেতারা বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। যশোরের কেশবপুর, মণিরামপুর, অভয়নগর, যশোর শহর ও সেনানিবাস পানিতে তলিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিলকপালিয়ায় টিআরএম প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সভায় বলা হয়, ভবদহ স্লুইসগেট থেকে বারো আওড়িয়া মোহনা পর্যন্ত ৫০-৬০ কিলোমিটার নদী ভরাট হতে চলেছে। মেশিন দিয়ে নদী কেটে ব্যবসা হতে পারে, কিন্তু তাতে নদী রক্ষা করা যায় না। এজন্য নদী প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হয়। তার জন্য টিআরএম ছাড়া এখনই কোনও বিকল্প নেই। এ অবস্থায় জনগণের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের মানুষ বিলকপালিয়ায়সহ পর্যায়ক্রমে বিলে বিলে টিআরএম ও উজানে নদীসংযোগের দাবি জানিয়ে আসছে। অথচ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিলকপালিয়ায় টিআরএম প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সভায় বলা হয়, সরকার জলাবদ্ধ এলাকাকে ‘জলাশয়’ ঘোষণা করে তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে; যা চরম গণবিরোধী শুধু নয়; এ অঞ্চলের প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রতিবেশবিরোধী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের মধ্যে জনপদকে সোপর্দ করা।
সভার প্রস্তাবে আরও বলা হয়, এলাকার জনগণ টিআরএম প্রকল্পের বিরোধী নন। অথচ সরকারি দলের একটি অংশ ও প্রশাসনের অভ্যন্তরে একটি চক্র টিআরএম বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে টিআরএম বাতিলে সিদ্ধান্ত সরকারি ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সরকারের ‘নদী বাঁচাও’ নীতি এই জনপদের জন্য নেওয়া টিআরএম এর বিষয়ে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং সরকারকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।
ভবদহ এলাকার জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে বিলকপালিয়ায় টিআরএমসহ প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এই দাবি বাস্তবায়নে– আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি এবং ৫ অক্টোবর যশোরের নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউট মাঠে গণসমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
সভায় আলোচনা করেন– সংগঠনের প্রধান উপদষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ। অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন– প্রধান সমন্বয়ক বৈকুণ্ঠবিহারী রায়, সদস্য সচিব চৈতন্যকুমার পাল, সদস্য হাফেজ আব্দুল হামিদ, চিন্ময় বিশ্বাস, সনজিত বিশ্বাস, মহেন রায়, শিবপদ বিশ্বাস, দিল্লীশ্বর বৈরাগী, ভগিরথ হালদার, রাজু আহমেদ প্রমুখ।