বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জের ধরে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় আরও দুইজন আহত হয়েছে। সোমবার বিকেলে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দৈবজ্ঞহাটি গ্রামের আবির আলীর ছেলে আনছার আলী শিকদার (৫৩) ও জোকা গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে শুকুর শেখ (৪৫)। গুরুতর আহত দৈজ্ঞহাটি গ্রামের ফরিদ শেখের ছেলে বাবুল শেখকে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিপক্ষের আহত মো. মিল্টন খানকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে আলতি বুরুজবাড়ি গ্রামের মৃত লতিফ খানের ছেলে ও দৈজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকিরের ভাগ্নে।
এলাকাবাসী জানায়, সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত দুইজনই বদিউজ্জামান সোহাগ গ্রুপের সদস্য।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল হক জানান, সংঘর্ষের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক শুকুরকে মৃত ঘোষণা করে। গুরুতর আহত আনছার আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এঘটনায় দৈজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকিরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গুরুতর আহত বাবুল শেখ জানান, দৈবজ্ঞহাটি বাজার থেকে তাদের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তাদের বোরখা পরতে বাধ্য করা হয়। বোরখা পরার পর তাদের এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করে।
মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজন জনকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায়। এর মধ্যে দুইজন মারা গেছে। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। দৈজ্ঞহাটি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকিরকে পুলিশ হেফাজাতে নেওয়া হয়েছে।