প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার বিকালে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে শুকুর শেখের লাশ আসছে এমন সংবাদ শুনে তার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য দৈজ্ঞহাটি এলাকায় রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অপেক্ষা করতে থাকে। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে লাশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে এলাকাবাসী তাদের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে করতে থাকে। পরে জানাজার আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগসহ আওয়ামী লীগের নেতারা বক্তব্য রাখেন। একপর্যায়ে বাগেরহাট-৪ আসনের আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানাজায় এসে বক্তৃতার জন্য মাইক নিলে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এসময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে ফের বক্তৃতা শুরু করলে জনসাধারণ আবার উত্তেজিত হয়ে ইট নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় বাগেরহাট পুলিশ সুপার উত্তেজিত জনসাধারণকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। তখন পুলিশ দ্রুত কর্ডন করে এমপিকে উদ্ধার করে নিরাপদে দৈবজ্ঞহাটী সেলিমাবাদ কলেজ মাঠের বাইরে নিয়ে আসেন। পরে এমপি ডা. মোজ্জাম্মেল হোসেন দুই নেতার জানাজা না পড়েই বাগেরহাট ফিরে যান।
প্রসঙ্গত. বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী দিহিদার ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য শেখ শুকুর আলী সোমবার বিকালে দৈবজ্ঞহাটীতে দলীয় প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দৈবজ্ঞহাটী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ফকিরসহ চারজনকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করে। এই দুই নেতাকে হত্যার পর থেকে এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।