খুলনা বিভাগে ৩ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১১১, আহত ১৭৪

 

খুলনায় নিসচার সংবাদ সম্মেলনখুলনা বিভাগে গত ৩ মাসে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) সড়ক দুর্ঘটনায় ১১১ জন নিহত ও ১৭৪ জন আহত হয়েছে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক দুর্ঘটনারোধে’ করণীয় বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।


বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিসচার খুলনা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম। সম্মেলনে স্বাগত বক্তৃতা করেন নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব।
এতে উপস্থিত ছিলেন– বিআরটিএ’র খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান, নিসচার জেলা সভাপতি মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, সহ-সভাপতি মো. সেলিম খান, ক্রীড়া সংগঠক মো. ইউসুফ আলী, শামসুদ্দিন আহমেদ শাম, খুলনা উন্নয়ন ফোরমের মহাসচিব এমএ কাশেম, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন আন্দোলনের চেয়ারম্যান শেখ মো. নাসিরউদ্দিন, কামরুল কাজল, আনোয়ারা পারভিন পরি, নিসচার সাংগঠনিক সম্পাদক এসএমএ রহিম, দফতর সম্পাদক এম মোস্তফা কামাল, শিক্ষক জিএম মহিউদ্দিন, শেখ আবদুল হালিম, লুৎফুন নাহার লাভলী, সাহানা আক্তার, শামসুন নাহার লিপি প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। খুলনা মহানগরীতে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বেপরোয়া মহেন্দ্র, মোটরসাইকেল, ইঞ্জিনচালিত রিকশা, অপরিকল্পিত ইজিবাইক এবং দিনের বেলা নগরীতে ট্রাক চলাচল। এছাড়াও রাস্তার পাশে ইট-বালু রাখা, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ইত্যাদি।
খুলনা বিভাগের মধ্যে যশোরে দুর্ঘটনার হার সবেচেয়ে বেশি এবং নিহত-আহতের সংখ্যাও বেশি। দুর্ঘটনার হার কম ছিল নড়াইল জেলায়। বিগত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহত ১১১ জন এবং আহত ১৭৪ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় নিহত ২৩ জন, আহত ৩৭ জন, বাগেরহাটে নিহত ১২ ও আহত ২৫, সাতক্ষীরায় নিহত ১৪ ও আহত ৩০, যশোরে নিহত ২৩ ও আহত ৪৪, ঝিনাইদহে নিহত ১১ ও আহত ২০, মাগুরায় নিহত ৫ ও আহত ১১, চুয়াডাঙ্গায় নিহত ২, কুষ্টিয়ায় নিহত ১৭ ও আহত ৪, মেহেরপুরে নিহত ১, নড়াইল নিহত ৩ ও আহত হয়েছেন ৩ জন।
খুলনা মহানগরীতে বর্তমানে আইন ভঙ্গ করে সড়কগুলোতে ইট-বালুর অবাধে ব্যবসা এবং বাড়িঘর নির্মাণের জন্য রাস্তার ওপর ইট, বালু রড, সিমেন্ট রাখা হচ্ছে। এবং ঢালাইয়ের কাজে যে রড ব্যবহার করা হয় তা রাস্তায় কাটা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্যদিকে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে সিটি মেয়র আলহাজ তালুকদার আবদুল খালেকের হস্তক্ষেপ কামনা এবং নগরীর ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।