নজমুল হুদা বলেন, ‘বিচারপতি সিনহা আমার প্রতি বেআইনিভাবে অবিচার করেছেন। ওয়ান ইলেভেনের পর মাইনাস টু ফর্মুলার অধিনে আমার বিরুদ্ধে প্রায় ২৬টি মামলা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি বড় বড় মামলায় আমি হাইকোর্ট থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলাম। বিচারপতি সিনহা আক্রোশবশত অব্যহতি পাওয়া মামলা পুনরুজ্জীতিত করে আমাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। আমি তার বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক হিসেবে মৌলিক অধিকার থেকে মামলা করেছি।’
আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমরা বিএনএ দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছি। হাইকোর্ট দু’এক দিনের মধ্যে একটি রায় দেবেন। যদি দলটি নিবন্ধিত হয়ে যায়, তবে পাট মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করবো। আর যদি নিবন্ধন না হয়, তবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।’
নাজমুল হুদা আরও বলেন, ‘আমি তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। আমার সঙ্গে আরও ৩৩টি দল রয়েছে। বর্তমানে সরকারের সঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। তাদের সঙ্গে নির্বাচন করতে আমরা আগ্রহী। আমরা ৫৭টি আসন চেয়েছি। আমাদের বেশ কিছু গ্রহণযোগ্য প্রার্থীও আছে। যাচাই বাছাই করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের ন্যূনতম ১৫/২০টি আসন আমাদের দেবেন বলে আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক চাপ রয়েছে। একদিকে মহাজোটে এরশাদ সাহেবের চাপ, ১৪ দলীয় ঐক্য জোটের আসন বন্টনের চাপ, বাইরে ইসলামী কতকগুলো দল রয়েছে তাদের চাপ, বামপন্থীরা আসতে পারে। তাদের চাপ রয়েছে। এ চাপের কারণে আমরা কয়টি আসন পাবো তা জানি না।’
বিএনএ‘র জেলা কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন–কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কে এ জাহাঙ্গীর মাজমাদার, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, জাগো দলের সভাপতি লিটন খানসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে একটি মামলা করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এসকে সিনহার বিরুদ্ধে উৎকোচ (ঘুষ) গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ আনেন নাজমুল হুদা। মামলায় এস কে সিনহার গ্রামের বাড়ির ঠিকানা দেওয়া হয়। অভিযোগের ঘটনাস্থল দেখানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের খাস কামরা, (বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ি, ওয়ার্ড নম্বর ২০ (নতুন), পুরাতন ৬৩, শাহবাগ থানা)। এতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই নাজমুল হুদার কাছ থেকে তিন কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। দুই মামলায় একটিতে দুই কোটি এবং অন্যটিতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ আনা হয় মামলায়।