খুলনার ২১শ জেলে পাবেন ভিজিএফ’র চাল

ইলিশ সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞাখুলনার ২১শ জেলে প্রত্যেকে ৩০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল পাবেন। কারণ,  ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত যেকোনও মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এছাড়া পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতও করা যাবে না। টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, নৌপথ, সড়ক পথ ও হাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় খুলনার দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা মৎস্য বিভাগের কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে। এই তিনটি উপজেলার নৌপথ, সড়ক পথ ও হাট বাজারে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনও যাবাবাহনে ইলিশ মাছ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা ১ থেকে ২ বছরের জেল অর্থবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। আর মৎস্য আহরণের সরঞ্জাম ও ইলিশ জব্দ করা হবে।’

খুলনা মৎস্য অধিদফতরের বিভাগীয় উপ পরিচালক রণজিৎ কুমার পাল বলেন, ‘দিঘলিয়া, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ এই তিন উপজেলায় মৎস্য বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন ২ হাজার ১শ জন। এ জেলেদের জন্য ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ হয়েছে। প্রত্যেকের কার্ডও রয়েছে। প্রতিটি কার্ডের অনুকূলে জেলেরা ৩০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল বরাদ্দ পাবেন। দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ৮শ ও দিঘলিয়া উপজেলায় ৩শ জন তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছেন।’

রণজিৎ কুমার পাল বলেন, ‘নিষিদ্ধ সময়ে সরকার ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে। কেউ এ আইন অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষিদ্ধ সময়ে মনিটরিং করা হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।’

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাগর ও নদীর মোহনায় ইলিশ ধরায় নিয়োজিত সব ট্রলার, নৌযান, নৌকা মালিক ও জেলেদের রবিবারের আগেই স্ব-স্ব ঘাট ও মোকামে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও মজুদে নিয়োজিত জেলে ট্রলার, নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ, বাস ও অন্যান্য পরিবহনের মালিক, আড়তদার ও বরফকল মালিকসহ জনসাধারণকেও আইন রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত দু’সপ্তাহ খুলনার বাজারে প্রচুর ইলিশের দেখা মিলেছে। বিভিন্ন বাজারে মাইকিং করে  কম দামে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এ সুযোগে বাঙালি ইলিশের স্বাদ নিতে ভুল করেনি। শনিবার খুলনার ইলিশ অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের ব্যাপক সমাগম ঘটে। পরিমাণ ছিল প্রায় ৫শ মণ।

আড়তদার আয়ুব আলী ফিস ট্রেডার্সের প্রোপাইটার শেখ সাইদুল ইসলাম জানান, আহরণ নিষিদ্ধের ঘোষণায় জেলেরা ফিরে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে মোকামে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। শুক্র ও শনিবার প্রায় ৫শ মণ করে ইলিশ এখানে আসে। তিনি বলেন, ‘৬শ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত প্রতিমণ ২৬ হাজার টাকা এবং তার থেকে কম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।’

বিগত দিনের চিত্র উল্লেখ করে ইলিশের এই পাইকার বলেন, ‘খুলনার মোকামে গত দশ বছরের তুলনায় এবারেই সবচেয়ে কম আমদানি হয়েছে। হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও পাথরঘাটা মোকাম থেকে ইলিশ আমদানির পরিমাণ খুবই কম ছিল।’

আড়তদার আলাউদ্দিন ফিস ট্রেডাসের প্রোপাইটার শেখ মাঈন উদ্দিন টোকন জানান, খুলনা অঞ্চলে মহাজনের মালিকানাধীন ১৫ থেকে ২০টি ইলিশ ধরার ট্রলার রয়েছে। যাতে দুই শতাধিক জেলে রয়েছে। ইতোমধ্যেই ট্রলারসহ অধিকাংশ জেলে ঘাটে ফিরেছে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন খুলনা অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ইলিশ সরবরাহ ছিল কম। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ২৪৫ মেট্রিক টন  ইলিশ সরবারহ হয়েছিল। এ বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ১৪০ মেট্রিক টন সরবরাহ হয়েছে। ২০১৭ সালের পুরো মৌসুমে ১ হাজার ৩ মেট্রিক টন ইলিশ সরবরাহ হয়েছিল। এ বছরের মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬৬ মেট্রিক টন সরবরাহ হয়। তবে, শেষের দিকে এসে সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বঙ্গোপসাগরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে।’ এছাড়া ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে ইলিশ মাছের অবস্থান ও গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।