বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি কারাগারে

যশোরের বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল কবীর




যশোরের বাঘারপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল কবীরকে পুলিশ মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে আদালতে হাজির করলে তার আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিকের আদালত এ আদেশ দেন।

পুলিশের দাবি, পূজা সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং পুলিশের প্রতি অশোভন আচরণ ও পুলিশকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে মর্মে তাকে ৮ অক্টোবর দুপুরে বাঘারপাড়া থানা কম্পাউন্ড থেকে আটক করা হয়।
সাংবাদিক নেতাদের অভিমত, ইকবালের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অবাস্তব মামলা করেছে পুলিশ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আটক বাঘারপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল কবীরের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই লিটন কুমার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-৬, তারিখ ০৮/১০/১৮; ধারা ৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/২৯৫-ক/৫০৬ পিসি।
মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিকের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আগামীকাল (১০ অক্টোবর) তার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর আলম শাহিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ তার পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়েছে। আমরা কাল শুনানিতে অংশ নেবো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর দুপুরে বাঘারপাড়া থানায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাঘারপাড়ার ৯০টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল কবীরকে সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি সভাস্থলে পৌঁছে মাত্র ১০ মিনিট আগে কেন তাকে সভার কথা জানানো হলো তা তার এক পরিচিত সাব-ইন্সপেক্টরের কাছে রাগতস্বরে জানতে চান। এ সময় সেখানে থাকা বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল শুরু করে। তখন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী সাংবাদিক ইকবাল কবীরকে তখনই আটকের নির্দেশ দেন। এরপরই তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সভা চলাকালে প্রেসক্লাব সভাপতি এসে খিস্তি-খেউড় করতে থাকেন। তখন কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল তাকে থামাতে গেলে তিনি অশোভন আচরণ করেন এবং তিন পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় তাকে তখনই আটক করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমি এই থানায় নতুন এসেছি। প্রেসক্লাব সভাপতি কিংবা আওয়ামী লীগের কোনও গ্রুপের নেতাকর্মীদের চিনি না। নেতাদের কারো প্ররোচনায় তাকে আটক করা হয়নি। থানায় অশোভন আচরণ করায় পূজা কমিটির নেতাকর্মীরা সেই সময় মিছিল করে। সাংবাদিক নেতা হিসেবে যেন তাকে কোনও ছাড় দেওয়া না হয় সেই দাবি জানান মিছিলকারীরা।
এদিকে, বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে সাংবাদিকরা মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু সে উদ্যোগ ভেস্তে গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, সাংবাদিক ইকবালের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। তার কৃতকর্মের ভিত্তিতে মামলা হলে আমাদের কিছুই বলার ছিল না।
যশোরের নতুন পুলিশ সুপার মঈনুল হকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এমন সাজানো মামলা প্রত্যাশা করেননি বলে জানান।