অব্যবহৃত খুমেকের রেডিওথেরাপি মেশিন নেওয়া হচ্ছে ঢাকায়

খুলনা মেডিক্যাল কলেজখুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের রেডিওথেরাপি মেশিনটি প্রায় সাত বছর অব্যবহৃত থাকার পর ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। গত শনিবার (১৩ অক্টোবর) খুলনা সার্কিট হাউজে চিকিৎসক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। খুমেক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান ডা. মুকিতুল হুদা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে ক্যান্সার চিকিৎসায় অতি গুরুত্বপূর্ণ এ মেশিনটি একবার চলে গেলে আদৌ ফিরে আসবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান নাগরিক প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলের মানুষের ক্যান্সার চিকিৎসায় উন্নত সেবা দিতে ২০১২ সালের জুলাই মাসে লিনিয়র এক্সেলেটর বা রেডিওথেরাপি মেশিনটি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মেশিনটি ক্যান্সার বিভাগের ভবনের সামনে রাখা হয়। যা আজ পর্যন্ত সেখানেই পড়ে থাকে। মেশিনটি প্রতিস্থাপন এবং আনুসঙ্গত অবকাঠামো নির্মাণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাড়ে ৭ কোটি টাকা চাওয়া হয়। যার মধ্যে ৫ কোটি টাকা মেশিনের অন্যান্য অংশ ও ২ কোটি টাকা অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, এটির অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনন্দ মোহন সাহা বলেন, ‘লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিনটি বসানোর জন্য অবকাঠামো নির্মাণে সাড়ে ১৭ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। এই অর্থ বরাদ্দ না আসায় থমকে যায় প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া।’
শনিবার খুলনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে খুমেক হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার ইউনিট চালু এবং রেডিওথেরাপি মেশিনটি প্রতিস্থাপনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রেডিওথেরাপি মেশিনটি রাজধানীর মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বাঙ্কার স্থাপনসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সম্পন্ন হলে আবার সম্পূর্ণ মেশিন এখানে দেওয়া হবে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান ডা. মুকিতুল হুদা বলেন, ‘এই মেশিনটি তখন ভুল করে আনা হয়েছিল। মেশিন প্রতিস্থাপন করতে অন্যান্য মেশিন আমাদের নেই। তাই মেশিনটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই মেশিন প্রতিস্থাপনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে। যা ২০১৯ সালে শেষ হবে। তখন আবার সম্পূর্ণ সেট পাওয়া যাবে।’
বিএমএ খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, ‘ক্যান্সার বিভাগে চিকিৎসক থাকে না। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এখানে অনিয়ম চলছে।’ মেশিনটি একবার চলে গেলে তা আর সহজে ফিরে আসবে কিনা তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।