রবিবার খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু




খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনের রাতের ছবিখুলনায় নবনির্মিত আধুনিক রেলস্টেশন থেকে রবিববার (২৫ নভেম্বর) ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে। প্রথম ট্রেন হিসেবে চিত্রা এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে খুলনা ছেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্টেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। এ উপলক্ষে শনিবার রাতে খুলনা আধুনিক রেলস্টেশন ভবন এবং এর আশপাশের এলাকায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খুলনা রেল স্টেশনের মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, আধুনিক স্টেশনে কোন লাইনে ট্রেন আসবে এবং যাবে তা শনিবার দেখানো হয়েছে। ট্রেন চলাচল শুরু করার সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর থেকে নিয়মিত এ স্টেশন থেকেই ট্রেন চলাচল করবে। স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের যাত্রার সময় উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক মো. মজিবর রহমান।

উল্লেখ্য, খুলনাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের এপ্রিলে আধুনিক রেলস্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মাস মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিদাকারি প্রতিষ্ঠানের দফায় দফায় সময় বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ ব্যয় ৫৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ অবস্থায় প্রকল্পে নতুন পানির ওভারহেড ট্যাঙ্ক যুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় বেড়ে যায়। এরই মধ্যে নির্মাণাধীন ২ নম্বর প্লাটফর্মের ছাদে ফাটল দেখা দেয়। পরবর্তীতে বুয়েটের প্রকৌশলীদের পরামর্শে প্লাটফর্মের ছাদের দু’দিকে নতুন করে ভিম নির্মাণ করা হয়। পরিবর্তন করা হয় নকশাও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সফরের সময় চলতি বছরের ৩ মার্চ স্টেশনটি উদ্বোধন করেন।

নবনির্মিত খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনটি তিনতলা বিশিষ্ট। প্রথম তলায় রয়েছে- ৬টি টিকিট কাউন্টার, ওয়েটিং রুম ও সহকারী স্টেশন মাস্টারের রুম। দ্বিতীয় তলায় স্টেশন মাস্টারের রুম, রেস্টুরেন্ট, ব্যাংকের শাখা, নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ওয়েটিং রুম, ফাস্টফুডের দোকান এবং রেল কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় রয়েছে রেলওয়ের প্রকৌশলীদের অফিস কক্ষ। নতুন এই স্টেশনে একসঙ্গে ৬টি ট্রেন প্রবেশ এবং বের হতে পারবে। স্টেশনে সিসি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেশন চত্বরে রয়েছে দৃষ্টি নন্দন ফুলের বাগান এবং অধিক সংখ্যক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আধুনিক এ রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ আরও সহজ হবে। সেইসঙ্গে ভারতের যাত্রীদের খুলনা স্টেশনেই ইমিগ্রেশন ও চেকিংসহ সব ভ্রমণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

খুলনা আধুনিক রেলস্টেশনের দায়িত্বরত রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ার মো. হাফিজুর রহমান বলেন, রবিবার থেকে পুরোপুরিভাবে আধুনিক রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করবে।

রেলস্টেশন নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রিয়াদ আহমেদ বলেন, স্টেশনের আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে নবনির্মিত এ স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে চিত্রা এক্সপ্রেস। এর মধ্য দিয়েই নতুন স্টেশন থেকে রেল চলাচল শুরু হবে।