রামপাল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মোহসীন ইজারাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন করার কারণে আমরা এ আসনটি হারিয়েছি। এ বছর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ড. ফরিদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় আমরা খুবই খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু, জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করাতে শুধু আমি নয় আমাদের সব নেতাকর্মীর মন ভেঙ্গে গেছে। আমরা চাই ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে একমাত্র ড. ফরিদুল ইসলামই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তাহলেই এ আসনে জয়লাভ সুনিশ্চিত হবে।’
মোংলা পৌর বিএনপির সহসভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে বিএনপির ভরাডুবি হবে। কারণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার রয়েছেন, যারা জামায়াতকে ভোট দেবে না। কিন্তু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের যে সেবা করেছেন, তাতে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে বিএনপির বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক নিতিশ বিশ্বাস বলেন, ‘মোংলা-রামপালে বিপুল পরিমাণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করেন। তারা কখনও জামায়াত নেতাকে ভোট দেবেন না। কিন্তু, এ আসনে বিএনপি নেতা ড. ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে আমার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি যাতে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়।’
রামপাল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শহিদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার কারণে এ আসনে জামায়াত নেতারা বিএনপির পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু, সাধারণ ভোটাররা বিএনপিকে ভালোবাসলেও জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। এবার সাবেক ছাত্রনেতা জেলা বিএনপির সহসভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলে তিনি বিজয়ী হবেন। কিন্তু, দল থেকে এবারও যদি জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াদুদকে প্রার্থী করা হয়, সে সিদ্ধান্ত হবে দলের জন্য আত্মঘাতী।’
জেলা বিএনপির সহসভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সেই থেকেই এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তারা চায় আমি ধানের শীষ প্রতীকে বাগেরহাট-৩ আসন থেকে নির্বাচন করি। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আশা করি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের চাহিদা অনুযায়ী দল আমাকে এ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ দেবেন। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদেরই হবে।’
মোংলা ও রামপাল এই দুই উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন।। ১৯৯১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন এ আসনে। বর্তমানে এ আসনে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সহধর্মিনী হাবিবুন নাহার আওয়ামী লীগের প্রার্থী।