একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ বাজার, ফরিদপুর নতুন বাজার, মঠবাড়ি পূর্বপাড়া রাস্তার মোড়, চান্দুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, আরিচপুর বাজার প্রভৃতি এলাকায় নির্বাচনি পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলেই সংখ্যালঘু নির্যাতন, বাংলা ভাই-ইংরেজি ভাই নানা নামে, নানা রঙে দেশে সন্ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম হয়। দেশের প্রতিটি স্থানে একযোগে বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ’
তিনি দেশের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে বলেন, ‘২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট। দিনের বেশিরভাগ সময় থাকতো বিদ্যুৎহীন। লোকে বলতো, বিদ্যুৎ যায় না, মাঝেমধ্যে আসে। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে এখন বিদ্যুতের উৎপাদন ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এখন কমপক্ষে ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে।’
আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, ‘যশোরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন কোনও বিভেদ নেই। দলের জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে কাজ করছেন। আমরা সবাই মিলে যশোরের ৬টি আসনে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নিরলস কাজ করে চলেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি বলেই আশাবাদী যশোরের ৬টি আসনই আমরা জননেত্রীকে উপহার দিতে পারবো।’
পথসভা ও নির্বাচনি গণসংযোগে অংশ নেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের সহোদর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ।
দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে পথসভাগুলোয় অন্যদের মধ্যে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, কাজী আব্দুস সবুর হেলাল, দেয়াড়া ইউনিয়নে নৌকা মার্কার নির্বাচনি আহ্বায়ক মনসুর আলী, যুবলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদি হাসান, স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা লুৎফুল কবীর বিজু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
দেয়াড়া ইউনিয়নে উন্নয়নের বিষয়ে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘গত ৫ বছরে এই ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়েছে। আমদাবাদ কলেজ, পার্শ্ববর্তী নতুন হাট কলেজ, আমদাবাদ হাই স্কুল, নারাঙ্গালী স্কুলসহ আরও চার-পাঁচটি স্কুল ভবন চারতলা, চান্দুটিয়া স্কুল তিনতলা ভবন করা হয়েছে।’
তিনি উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেন, ‘সকাল থেকেই আপনারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। কেননা নৌকা মার্কা জিতলেই আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর তিনি প্রধানমন্ত্রী মানেই দেশে নতুন নতুন রাস্তা, নতুন নতুন স্কুল বিল্ডিং, বড় বড় ব্রিজ আর কালভার্ট।