সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, মঠাখালী এলাকার পুটিমারী খালে এক জেলের জালে আটকা পড়া কচ্ছপটি সোমবার দুপুরে শহরের প্রধান মাছ বাজারে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। এসময় বনবিভাগেরই বাটাগুর বাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব ও বনবিভাগের সদস্যরা সেটিকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ৪০ বছর বয়সের এ বাটাগুর বাস্কার ওজন সাড়ে ১২ কেজি।
আ. রব বলেন, জেলের জালে বেশ বড় আকৃতির এ কচ্ছপটি (বাটাগুর বাস্কা) ধরা পড়ে। ওই জেলে কচ্ছপটিকে মেরে ফেলার চেষ্টাকালে অপর জেলে বোরহান তার কাছ থেকে কচ্ছপটি ছাড়িয়ে নেয়। পরে বোরহান দুপুরে মিঠাখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বর ও স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের কাছে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে আবুল হোসেন কচ্ছপটি নিয়ে মোংলা পৌর শহরের প্রধান মাছ বাজারে বিক্রি করতে আসেন।
আ. রব আরও বলেন, কচ্ছপটির পিঠের ওপর স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার বসানো দেখে সেটি কেউ না কিনে তারা বনবিভাগকে খবর দেয়। পরে ইউপি মেম্বর আবুল হোসেনকে ১ হাজার টাকা দিয়ে কচ্ছপটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান তিনি।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর এ কচ্ছপটি বঙ্গোপসাগরের মোহনার কালিরচরের সুন্দরবনের ৪৩ নম্বর কম্পাটমেন্ট এলাকায় ছাড়া হয়েছিল। স্যাটেলাইট জিপিএস ট্র্যাকিং ট্রান্সমিটার সিস্টেম সংযোজিত এ বাটাগুর বাস্কা ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল এর বিচরণক্ষেত্র, স্বভাব, পানির ওপরে রোদ পোহানো ও পানির নিচের অবস্থান নির্ণয়সহ প্রজননক্ষেত্র সম্পর্কে গবেষণার তথ্য সংগ্রহ। এ পর্যন্ত দুই দফায় এমন পাঁচটি কচ্ছপ সাগর-সুন্দরবনে ছাড়া হয়েছে। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জু, টিএসএ আমেরিকা ও বাংলাদেশ বনবিভাগ। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে এ প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়ে থাকে দেশ-বিদেশের কন্ট্রোল রুম থেকেই।