মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে বালু বোঝাই একটি বাল্কহেড ডুবির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে স্রোতের টানে নোঙরের শিকল ছিড়ে আরেকটি নৌযানের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাল্কহেডটি ডুবে যায়। তবে এটি উদ্ধারে এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেনি মালিক পক্ষ। মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার দুরুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন,‘ডুবে যাওয়া নৌযানটি বন্দরের মূল চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করবে কিনা তা ঘটনাস্থল ঘুরে না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।’
বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম বাহার জানান, খুলনার উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ১৪ হাজার ফুট লাল বালু বোঝাই এমবি জুবায়ের নামে বাল্কহেডটি মঙ্গলবার রাতে মোংলা বন্দরের পশুর নদীর বানীশান্তা এলাকায় নোঙর করে অবস্থান করছিল। পরদিন বুধবার সকালে প্রচন্ড স্রোতের টানে বাল্কহেডটির নোঙরের শিকল ছিড়ে পিছনে থাকা একটি টাগ বোটের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই বালু বোঝাই বাল্কহেডটি ডুবে যায়। এসময় বাল্কহেডে থাকা ৯ জন স্টাফ সাতরে পাশের নৌযানে উঠে যাওয়ায় কোনও ক্ষতি হয়নি। বাল্কহেড ডুবির পর বুধবার দুপুর পর্যন্ত মালিক পক্ষ ঘটনাস্থলে যায়নি এবং উদ্ধার তৎপরতাও শুরু করেনি।
প্রায় ৬ লাখ টাকার বালু নিয়ে কোটি টাকা মুল্যের নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর সেটিকে উদ্ধারের জন্য মালিকপক্ষ বরিশাল থেকে দুপুরে মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাল্কহেডটির ইঞ্জিন ও ট্যাংক থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন,‘ডুবন্ত নৌযানের জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ায় পানি দূষণের পাশাপাশি জলজ ও প্রাণীজ সম্পদের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক বছরই বন্দর চ্যানেলসহ সুন্দরবনের আশপাশে জলযান ডুবছে, সেই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সজাগ হতে হবে এবং ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।’