ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

 

হামলায় আহত বশিরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী মিরাজ ও বশিরকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় সংগঠনটির ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে মিরাজের মা পান্না বেগম বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাফিজুর রহমান, সাবেক দফতর সম্পাদক শেখ সামী তাপুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল খালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় বাদী পান্না বেগম অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ছেলে আল মিরাজ ও তার বন্ধু বশির দৌলতদিয়াড় এলাকার দক্ষিণ পাড়ার জহুরুলের চায়ের দোকানে বসে গল্প করছিল। এসময় পূর্ববিরোধের জের ধরে আসামিরা তার ছেলে ও বসিরকে হত্যার উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। মিরাজের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এজাহারে আসামিদের স্থানীয় সন্ত্রাসী বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে।

অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল খালেক জানান, শনিবার সকালে বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। যেহেতু ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাই সুক্ষ্ম তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সদর থানার উপ-পরিদর্শক ভবতোষ ঘোষকে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা শহরতলীর দৌলতদিয়াড় এলাকার দক্ষিণপাড়ায় ছাত্রলীগের একপক্ষের হামলায় গুরুতর জখম হন অপরপক্ষের মিরাজ ও বশির। হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিরাজ ও বশিরের শরীরের বিভিন্ন স্থান জখম হয়। এর মধ্যে মিরাজের বাম পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই মিরাজকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় রেফার্ড করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, এ হামলার পর চুয়াডাঙ্গা শহরে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।