১ মার্চ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় যশোরের ৮ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন সদর উপজেলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, কেশবপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এইচএম আমীর হোসেন। দ্বিতীয়বার মনোনয়ন পেয়েছেন শার্শা উপজেলা পরিষদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু।
এছাড়া নতুন যে পাঁচজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, ঝিকরগাছায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, চৌগাছায় অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিচুর রহমান, বাঘারপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী, মণিরামপুরে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা খানম এবং অভয়নগরে শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর।
মণিরামপুরের বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও চৌগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমানকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এছাড়া ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও বাঘারপাড়ায় নতুনদের মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনিরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে মিছিল সমাবেশ করেছেন তার সমর্থকরা।চৌগাছায় মনোনয়ন পাওয়া অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিচুর রহমান দলের কেউ নন দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের দাবি,যে মানুষটি কখনও দল করেননি তিনি কীভাবে মনোনয়ন পান?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম বাবুল বলেন, ‘যশোরের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ও জয়ী হচ্ছেন। দলের কেন্দ্রীয় কমিটিও চাইছে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। যেহেতু বিএনপি বা অন্য কোনও দল নির্বাচনে আসছে না, সেক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয় নেতারা নির্বাচন করছেন যাতে কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি থাকে।’
চৌগাছা উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম হাবিব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, ‘এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।’
বাঘারপাড়া উপজেলায় হাসান আলীর মনোনয়নের খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম কাজল ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চার বারের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন।
এ বিষয়ে নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাঘারপাড়াবাসীর সেবা করে চলেছি। আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে। সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি।’ তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলেও জানান।
রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করবেন। তিনি বলেছেন, ‘দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে ২০০৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। ২০১৪ সালে দলের সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থী হইনি। এবার ভেবেছিলাম দল মনোনয়ন দেবে। কিন্তু আমি হতাশ ও হতবাক হয়েছি। স্বতন্ত্র হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো।’
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘দলের হাইকমান্ড বিচার বিশ্লেষণ করে ৮ উপজেলায় নৌকার মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে। নেত্রীর সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের ফসল এবারের প্রার্থীরা। দলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে,তার বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’