বসন্তের ঝড় ও বৃষ্টিতে সাতক্ষীরায় আমের মুকুলের ক্ষতি

সাতক্ষীরা জেলা

সাতক্ষীরার আম গত চার বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রফতানি হওয়ায় জেলাকে ‘আমের রাজ্য’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রতি বছরই আম চাষের দিকে ঝুঁকছে এ জেলার মানুষ। এবারও সাতক্ষীরার আম বিদেশে রফতানির করার আশায় ছিলেন আম চাষীরা। কিন্তু অসময়ে ঝড়/বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টির কারণে আমের ফলন নিয়ে উদ্বিগ্ন চাষিরা।

গত সপ্তাতে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি ও ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টির কারণে আমের মুকুলের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন কৃষকরা। বেশির ভাগ আমের মুকুল ঝরে গেছে। এছাড়াও প্রতিদিনই ঝির ঝির বৃষ্টির কারণে আমের মুকুল পচে যাচ্ছে। এর ফলে কি পরিমাণ ক্ষতির হয়েছে তা এখনই বোঝা না গেলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা সদরের রাজার বাগান এলাকার আম চাষী খলিলুর রহমান বলেন,‘এ বছর শীত শেষ না হতেই আমের মুকুল চলে এসেছে। অন্য বছরের তুলনায় এবছরও অনেক আমের মুকুল ধরেছে। অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টির জন্য আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে, বাকি মুকুলগুলোও পচে যাচ্ছে। আল্লাহ রহমত না করলে এবছর চাষীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন,‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে আমাদের এখানে বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের ঋতু পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। তাই বৃষ্টির সময় বৃষ্টি হচ্ছে না। অসময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। অসময়ের ঝড় ও বৃষ্টির কারণে আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলাতে সাড়ে ৪ হাজার ১ হেক্টর জমিতে আম আবাদের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

তবে গত বছর এ জেলায় আমের চাষ হয়েছিল ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হবে। সাতক্ষীরার চাহিদা মিটিয়ে এ বছর প্রচুর আম দেশ-বিদেশে রফতানি হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগ।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু বিশ্বাস জানান, ঝড় ও বৃষ্টিতে আমের মুকুলের সামান্য ক্ষতি হলেও যেসব গাছে মুকুল দানা বেঁধেছে সেই গাছের জন্য বৃষ্টিতে উপকারই বেশি হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে ঝড় না হয়ে যদি বৃষ্টি হয় তাহলে ধানের ফলনও ভালো হবে। তিনি আশা করেন আর ক্ষতি না হলে আমের ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে এবং গত চার বছরের ন্যায় এবারও সাতক্ষীরা থেকে ৮০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানি হবে।