এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইস্যুতে ‘টেনশনে’ পড়েছেন জেলা-উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ বা নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে কারা কাজ করেছেন, কারা করেননি সে সব কর্মকাণ্ডের ওপর প্রতিবেদন ও বিরুদ্ধে কাজ করা নেতাদের বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ নির্দেশনায় খুলনায় নৌকার বিরুদ্ধে থাকা তৃণমূলের শীর্ষ নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও টেনশন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খুলনার প্রত্যেক উপজেলায় গ্রুপিং-দলাদলির কারণে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অভিযোগ রয়েছে, ডুমুরিয়া উপজেলায় নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় একটি অংশ। এরই মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিবাদের কারণে এই উপজেলায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
কয়রা ও তেরখাদা উপজেলায় নৌকার বিপক্ষে দলের পদধারী সিনিয়র নেতাদের প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে। কয়রায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে দলের স্থানীয় সাংসদ মো. আক্তারুজ্জামানকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়া শনিবার খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রূপসা উপজেলার স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী আকবার রাতেই ব্যালটে সিল মারার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কয়েকটি উপজেলায় নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর দাপটও দেখা গেছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনি মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার পেছনে অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। শীর্ষ নেতাদের অনেকে আবার নৌকার প্রার্থীর পক্ষে না থেকে কৌশলী ভূমিকাও নিয়েছেন।
তেরখাদা উপজেলায় নৌকার প্রার্থী শরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেন, দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তারা নৌকার বিপক্ষে কাজ করছেন। এ সব কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীক দিয়েছেন, সেখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাকর্মীর কোনোভাবে বিরোধ বা বিপক্ষে কাজ করার অবকাশ নেই। তাছাড়া এ ধরনের বিরোধপূর্ণ আচরণও কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে দলের এমপি ও পদধারী নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আইনজীবী সুজিত অধিকারী বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন করার কারণেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচনে যিনি জনগণের ভোট পেয়ে নির্বাচিত হবেন তাকেই দলীয়ভাবে স্বাগত জানানো হবে।’