বাগেরহাটে বাজারে ওঠা ইলিশ বাগেরহাটে তাজা ইলিশ নয়, মজুত ইলিশ দিয়ে উদযাপন হবে পহেলা বৈশাখ। সাগর উত্তাল ও কাল বৈশাখী ঝড়ের কারণে সমুদ্রগামী জেলেরো নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে বছরের এই সময়টা জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজ করেন। ফলে সাগরে মাছ থাকলেও জেলেদের আনাগোনা থাকেনা বললেই চলে। তাই বাগেরহাটে এবার মজুত ইলিশ মাছ দিয়েই পহেলা বৈশাখে চাহিদা মেটাচ্ছেন মৎস্য আড়তদারসহ পাইকারী ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাটকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩শ থেকে ৪শ টাকায়। এছাড়া ৫শ থেকে ৬শ গ্রামের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫শ থেকে ৭শ টাকায়।
বাগেরহাট বাজারে মাছ কিনতে আসা এনজিওকর্মী মামুন আহমেদ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বছরের এ সময়টা ইলিশের দাম বেড়ে যায়। তারপরও বাসার সবার চাহিদার কথা চিন্তা করে যে ইলিশই হোক কিনে ফিরতে হবে। তবে বড় ইলিশের দাম অনেক বেশি।’
বাগেরহাটে বাজারে ওঠা ইলিশ বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক কুমার অনুপ বিশ্বাস বলেন, ‘গত কয়েকদিনে কোনও মাছ ধরা ট্রলার কেবি বাজারের ঘাটে ভেড়েনি। তাই তাজা ইলিশ এই বাজার থেকে বিক্রি হয়নি। তবে, কিছু কোল্ড স্টোরের ইলিশ এসেছিল। সেগুলো বিক্রি করা হয়েছে। শুনেছি, খুচরা বাজারে পিরোজপুর থেকে কিছু ইলিশ এনে বিক্রি করা হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসনের নাজির ফখরুল ইসলাম জানান, বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পান্তা উৎসবে ইলিশ থাকছে না। এবার পান্তা উৎসবে পান্তা ভাতের সঙ্গে থাকবে আলু ভর্তা, ডাল ভর্তা, ডালের বড়া, বেগুন ভাজি ও চিংড়ি ভুনাসহ দেশীয় খাবার।
বাগেরহাটে বাজারে ওঠা ইলিশ মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, কেবি বাজার দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি মাছ বিক্রির ঐতিহ্যবাহি বাজার। খুলনা, গোপালগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে খুচরা বিক্রেতারা আসেন এখানে মাছ কিনতে। মৌসুমের সময় প্রতিদিনই প্রায় কয়েক টন ইলিশ বিক্রি হয় এ বাজারে। পাইকারি মাছ বিক্রির পুরাতন বাজার হলেও এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে কেবি বাজারে ইলিশ বোঝাই ট্রলার ভিড়ছে না। মূলত সাগর ও নদী এসময় উত্তাল থাকার কারণে জেলেরা নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে এসময়টাকেই তাদের মাছ ধরার উপকরণ জাল ও ট্রলার মেরামতের উপযুক্ত সময় হিসাবে বেছে নেয়।