ফণীর আঘাতে দক্ষিণ-পশ্চিমের ১৮ জেলায় বিদ্যুতের ক্ষতি কোটি টাকা


বিদ্যুৎ, ফাইল ছবিঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্যে ১৮ জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের ৩২টি পয়েন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। ঝড় শেষে দ্রুত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করে দক্ষতার প্রমাণ দেন ওজোপাডিকো’র (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কো. লি.) এর কর্মকর্তারা।
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, ফণীর প্রভাবে ওজোপাডিকোর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮১৮ টাকা। এর মধ্যে খুলনা সার্কেলে ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার ২৮৮, যশোর সার্কেলে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৫৩০, কুষ্টিয়া সার্কেলে ৪ লাখ ৫ হাজার, ফরিদপুর সার্কেলে ২১ লাখ ৮৪ হাজার, বরিশাল সার্কেলে ১৮ লাখ ৮০ হাজার এবং পটুয়াখালী সার্কেলে ২৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। 
ওজোপাডিকোর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার শফিক উদ্দিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সমষ্টিগতভাবে ফণীর প্রভাব কাটানো ও ক্ষতি কমাতে তৎপর ছিলেন। ফলে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করতে সক্ষম হই আমরা।’

তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নির্দেশনায় ওজোপাডিকোর প্রধান কার্যালয়ে একটি, ৬টি সার্কেলে ৬টি ও ঢাকায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার মাধ্যমে দুর্যোগকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মনিটরিং ও তদারকি করা হয়। সেখানে সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেখানেই তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফণীর আঘাতের তথ্য পাওয়ার পরই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা হয়। যার সফলতা আমরা পেয়েছি।’
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, ফণির আঘাতে ওজোপাডিকো’র ২১ জেলার মধ্যে ১৮টি জেলার ৩২টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এ সব উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িক বিচ্ছিন্ন হলেও শনিবার বিকাল ৪টার মধ্যে আবার তা সচল করা সম্ভব হয়। ফণির প্রভাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি কমাতে ২ মে থেকে ওজোপাডিকো’র আওতাধীন পরিচালনা এলাকায় বিদ্যুৎ সচল রাখার স্বার্থে ৬টি সার্কেল এলাকায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। সার্কেলগুলো হচ্ছে খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, বরিশাল, পটুয়াখালি।
ওজোপাডিকোর অপর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পরিকল্পনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হয়েছে। ফণীর আঘাত হানার আগাম তথ্য পাওয়ার পরই সবাই বেশি সতর্ক ছিলেন।