বকেয়া মজুরির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা মিলগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। পাশাপাশি তারা আজ মঙ্গলবার (৭ মে) রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। প্রথম রমজানে তারা এ অবরোধ শেষ করেন ইফতারের মধ্যদিয়ে।
শ্রমিকদের অবরোধে বিকাল ৪টা থেকে ইফতারের আগপর্যন্ত খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদারী আন্তঃনগর ট্রেন ছাড়েনি। এতে স্টেশনে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো মানুষেরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ‘সোমবার দুপুরের বৈঠকে নেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) বিকাল ৪টা থেকে শ্রমিকরা রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করেন। ইফতার করে সন্ধ্যা ৭টায় অবরোধ শেষ হবে। আর বুধবার সকাল ১১টায় ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।’
পাটকল শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সম্পাদক ও ক্রিসেন্ট জুট মিল ইউনিটের সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে খুলনার খালিশপুর ও দিঘলিয়া শিল্পাঞ্চলের ৫টি পাটকলের শ্রমিকরা নতুন রাস্তা মোড়, আটরা শিল্পাঞ্চলের ২টি পাটকলের শ্রমিকরা আলিম জুট মিলের সামনে ও নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চলের ২টি মিলের শ্রমিকরা রাজঘাটে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। বুধবার ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
যাত্রী বন্যা বলেন, ‘দর্শনা যাওয়ার জন্য পৌনে ৪টায় স্টেশনে এসেছি। কিন্তু ৪টার ট্রেন ছাড়েনি। এ কারণে শিশু সন্তান নিয়ে স্টেশনেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘বিকালে খুলনা থেকে একটিই ট্রেন ছিল; যেটি রাজশাহীগামী সাগরদারী ট্রেন। অবরোধের কারণে ট্রেনটি ছাড়া সম্ভব হয়নি। অবরোধ শেষে ট্রেনটি খুলনা থেকে ছেড়ে যাবে।’
এদিকে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজপথ রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা রাজপথেই নামাজ আদায় ও ইফতার করেছেন। শ্রমিক নেতা খলিলুর রহমান বলেন, ‘রুটি রুজির আন্দোলনে শ্রমিকরা রাজপথে নেমেছে। প্রথম রমজানে তারা আছর ও মাগরিবের নামাজ ও ইফতার রাজপথেই সম্পন্ন করেন।’
উল্লেখ্য, জাতীয় মজুরি কমিশন-২০১৫-এর রোয়েদাদ; পাটক্রয়ের অর্থ বরাদ্দ; বদলি শ্রমিক স্থায়ীকরণ; অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের সব বকেয়া পরিশোধ; শ্রমিকদের প্রতি সপ্তাহে মজুরি পরিশোধসহ বকেয়া মজুরি প্রদান; খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকদের বিজেএমসির অন্যান্য মিলের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন পাটকল শ্রমিকরা। সর্বশেষ গত ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল দেশের সব পাটকলে একযোগে ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট এবং ৪ ঘণ্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শ্রমিকদের ধর্মঘট ও অবরোধের কারণে মিলসহ শিল্পাঞ্চল খুলনা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ৯ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন পাটকলের শ্রমিকরা।