কুষ্টিয়ায় ১ লাখ ৩৩ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত

01ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে শেষ সময়েও ব্যস্ত কুষ্টিয়ার খামারিরা। এবারও কুষ্টিয়ায় প্রায় ১ লাখ সাড়ে ৩৩ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন চলছে বিক্রির জন্য শেষ সময়ের প্রস্তুতি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। ভারত থেকে গরু না আসলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ১৭ হাজার ৫৪৩টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৬৫ হাজার ৭১৩টি গরু, ৭৮৯টি মহিষ, ৬৫ হাজার ৮০৩টি ছাগল এবং ১ হাজার ১৭৬টি ভেড়া ও ১০৯টি অন্যান্য পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এ জেলায় মোট ১২টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাট ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পশু বিক্রি করা হবে।

এদিকে, গত বছর অনেক খামার মালিক লোকসানে পড়ায় এবার গরুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। লোকসান কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন বেশিরভাগ খামার মালিকরা। প্রায় খামারেই দেশি ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু পালন করা হয়েছে।

তথ্যমতে, গত বছর কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ২০ হাজার ১১০টি খামারে ৮০ হাজার ১৩৯টি গরু, ৬৪ হাজার ১৮২টি ছাগল এবং ৩ হাজার ১২১টি ভেড়া মোটাতাজাকরণ করা হয়েছিল। তবে গত বছর অনেক খামার মালিকের গরু বিক্রি করে লোকসান গুণতে হয়েছে। যে কারণে এবার জেলায় গরুর সংখ্যা কমেছে।

দৌলতপুর উপজেলার সাদীপুর গ্রামের গরুর খামারি হুমায়ুন আহমেদ জানান, গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এ বছর ১০০টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গরু ঢাকায় পাঠানো শুরু হয়েছে। ভারতীয় গরু আমাদানি না হলে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের সোলাইমান হোসেন জানান, গত বছর তিনটি গরুতে প্রায় ২০ হাজার টাকা লেকসান দিতে হয়েছে। তাই এ বছর কোনও গরু পালন করেননি তিনি।

মিরপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের ইসা হক জানান, গত বছরের মতো এবারও একটি গরু পালন করেছি। গরুটি ৬৫ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। বর্তমানে দেড় লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্ট করায় কুষ্টিয়ার গরুর ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় গরু কিছুটা কমেছে। খামারিদের গরু পালন ও বর্ষায় যাতে রোগ বালাই না হয় সেজন্য নানা পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে যাতে অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। জেলার ১২টি পশু হাটে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খামারিদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি অসাধু পন্থায় গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’