জিআরপি থানায় ধর্ষণের অভিযোগ, ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন

 

খুলনা

খুলনা জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রেলওয়ে পাকশি জেলা কর্তৃক গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার খুলনায় পৌঁছে তিনি ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করছেন। কিন্তু একজন আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে খুলনা আদালতের সব কার্যক্রম আজ স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে আবেদনের শুনানি হয়নি।

উল্লেখ্য, ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশ সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে গভীর রাতে জিআরপি থানা হাজতে ওসি উছমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৩ আগস্ট তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির সময় জিআরপি থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ভিকটিম। এরপর আদালতের নির্দেশে সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং  অন্য সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ. ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করেছে।

গত ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশি নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক ২টি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দী নিয়েছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।