শিপইয়ার্ড’র মামলায় কেডিএ চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকসহ তিনজনকে শোকজ

খুলনা

মহানগরীর শিপইয়ার্ড রোড চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির টাকা না পেয়ে স্থাপনা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। এ মামলায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও ভূমি হুকুম কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত সোমবার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিন এ আদেশ দেন।

আদেশে কেডিএর চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক ও ভূমি হুকুম কর্মকর্তাকে ১০ দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা কেন দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন জানান, শিপইয়ার্ড রোড চার লেনে উন্নীত করার জন্য শিপইয়ার্ড লিমিটেডের কাছ থেকে ১.১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেডিএ। কিন্তু অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ না করে জমির স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে খুলনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েও কোনও প্রতিকার পাননি শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় খুলনা শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। 

আদালতের সেরেস্তাদার আব্দুর রাজ্জাক নথীর বরাত দিয়ে জানান, শিপইয়ার্ড রোড চার লেনে উন্নীত করার জন্য শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ১.১৭৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে কেডিএ। এরপর ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে কেডিএ জমির মূল্যে বাবদ  ৯ কোটি ৬৮ লাখ ২২ হাজার ৯৯৩ টাকা জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়। এরপর ওই বছরের ১৩ মে চিঠির মাধ্যমে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডকে ১ কোটি ২৪ লাখ ১১ হাজার ৬৯১ টাকা নিতে বলেন জেলা প্রশাসক। জমি অধিগ্রহণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করে জেলা প্রশাসক চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান এন্টারপ্রাইজকে জমির স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ম্যানেজার (প্রশাসন) মো. গোলাম ছরোয়ার বাদী হয়ে যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।