খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজীত অধিকারী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সম্মেলন কীভাবে করা যাবে, কোন ধরনের নেতা কমিটিতে স্থান পাবে, নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় প্রাধান্য পাবে, নতুন গঠনতন্ত্রের আলোকে পদ পদবি সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা হাতে পাওয়া গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাঠালেও তালিকা হাতে পাইনি। তালিকা হাতে পেলেই তা প্রকাশ করা হবে।’
সুজীত অধিকারী বলেন, রবিবার দুপুরপর্যন্ত কোনও তালিকা হাতে পাওয়া যায়নি। অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা কেন্দ্র থেকে করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয়ভা নেতাদের কোনও ভূমিকা নেই। তবে, স্থানীয়ভাবে কয়েকটি উপজেলা থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা কয়েকটি অভিযোগপত্র জেলা নেতাদের কাছে জমা দিয়েছেন। তা কমিটির সভায় উপস্থাপন ও আলোচনা করার পর জানা যাবে।
আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া বিএনপিপন্থী খুলনা সিটি করপোরেশনের ১২ জন স্বতন্ত্র ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। গঠনতন্ত্র অনুসারে যোগদানের মেয়াদ একবছর না হওয়ায় সম্মেলনে তাদের প্রাথমিক সদস্য পদ দিতে অনীহা নেতাকর্মীদের। এছাড়া ভিন্ন মতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ড নেতাকর্মীরা তাদেরকে ‘হাইব্রিড’ আখ্যা দিয়ে সরাসরি বিরোধিতা করছেন।
খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম সানাউল্লাহ নান্নু বলেন, ‘বিতর্ক হওয়ার কারণে কয়েকটি ওয়ার্ডের যোগদানকারী কাউন্সিলরদের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়া হয়নি। তবে শুধু কাউন্সিলরদের দলের সদস্যপদ দিতে আলোচনা করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া কর্মী সমর্থকদের সদস্য পদ দেওয়া হবে না।’
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় থেকেই ওই সব কাউন্সিলররা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। এ কারণে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘রবিবার পর্যন্ত আমরা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা হাতে পাইনি। তবে সম্মেলন সফল করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণ করেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কেন্দ্র থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে কঠোররতা আরোপের নির্দেশনা রয়েছে। এদের ব্যাপারে কেবল সম্মেলনেই নয়, সার্বিকভাবে সতর্ক থাকারও নির্দেশনা রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২৪ সেপ্টেম্বর সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা খুলনার ১০ জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করে দেন। ওই সভায় আগামী ৭ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সভায় ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।