নড়াইলের লোহাগড়া থানা পুলিশের হেফাজতে শিহাব মল্লিক (২৮) নামে এক যুবককে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশের নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক লোহাগড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি লোহাগড়া পৌর এলাকার গোপীনাথপুর গ্রামের এনামুল মল্লিকের ছেলে।
নির্যাতনের শিকার শিহাব মল্লিক বলেন, ‘গত শনিবার (২ নভেম্বর) সকালে পারিবারিক বিরোধের সময় ফুফাতো ভাই মনিরুল ও খাইরুল মল্লিক এক সঙ্গে তার বাবা এনামুল মল্লিকের ওপর চড়াও হয়। বিষয়টি নিয়ে তাদের বড় ভাই বদরুল মল্লিকের সঙ্গে শিহাবের বাকবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায় বদরুল মল্লিককে মারধোর করেন শিহাব। এ ঘটনায় বদরুল মল্লিকের ছোট ভাই মনিরুল মল্লিক বাদী হয়ে শিহাব ও তার মা বিউটি বেগমকে আসামি করে গত শনিবার দুপুরে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পায় এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক। তিনি পরদিন রবিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিহাব মল্লিককে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, ‘গত রবিবার রাত সাড়ে এগারোটা থেকে পরের দিন সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত এসআই সিদ্দিক তাকে হাতকড়া পরিয়ে এবং চোখ বেঁধে দফায় দফায় নির্যাতন করে। নির্যাতনের কারণে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে শিহাবকে কিছুটা সুস্থ করে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। শিহাব আদালত চত্ত্বরে তার পরিবারকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের কথা জানান। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) শিহাব জামিনে মুক্ত হলে ওইদিনই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
শিহাবের এক আত্মীয় বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরুস সালাম সিদ্দিক বাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে শিহাবের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।’
অভিযুক্ত এসআই সিদ্দিকের কাছে নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাররম হোসেন জানান, শিহাব মল্লিক নামে এক যুবককে আটকের পর দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে পুলিশ নির্যাতন করেছে বলে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি আদৌ সত্য নয় বলে তিনি জানান।