সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের ইমামুল হক প্রায় ৮ মণ মুলা নিয়ে এসেছিলেন। বিক্রি করেছেন মাত্র ২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ, মণ প্রতি মুলা বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়। কিন্তু নভেম্বরে তিনি ওই মুলা বিক্রি করেন ১২শ’ টাকা মণ দরে।
রহমতপুর এলাকার কৃষক মতিয়ার রহমান হাটে নিয়ে এসেছেন প্রায় এক হাজার পিস বাঁধাকপি। বিক্রি করেছেন সাড়ে আট হাজার টাকায়। কিন্তু নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের হাটেও তিনি প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন ২০ টাকারও বেশি দামে।
হাপানিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান ফুলকপি বিক্রি করেছেন ২৫ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, শীতের শুরুতে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি ফুলকপি। এখন বেশ কম দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বেগুনের জন্যে সার আর কীটনাশকেই বেশি খরচ হয়ে যায়। গাছ থাকলেও ফলন এখন একটু কম। প্রথমদিকে অনাবৃষ্টি এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর আবহাওয়া ভালো থাকায় কিছুটা ফলন ভালো হয় তাদের। সেসময় দামও ভালো পেয়েছেন তারা।
বাজারে দুই ধরনের শিম উঠলেও দামের কোনও ফারাক ছিল না। দৌলতদিহি এলাকার কৃষক ইউনুস আলী বলেন, আজকের হাটে শিম বিক্রি করেছি ১৬ টাকা দরে। প্রথমদিকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছি।
ব্যাপারি মোহাম্মদ হাসান জানান, বর্তমানে ঢাকায় সবজির চাহিদা একটু কম। কারণ ঢাকা বা চট্টগ্রামে সবজির সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। তাছাড়া চর অঞ্চলের সবজি বাজারে ওঠায় তারা এখন ঢাকায় পাঠাতে পারছেন না। অল্পকিছু সবজি কিনেছেন খুলনার বাজারে পাঠানোর জন্য।
হাসান বলেন, আমাদের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে কেজি প্রতি পাঁচ টাকা খরচ ধরেই সবজি পাঠাতে হয়। সেক্ষেত্রে বাজারে কেমন দাম পাওয়া যাবে- তা এখনই বলতে পারছি না।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলায় এবার শীতকালীন মৌসুমে সবজি চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে যশোর সদরে ২ হাজার ৩১৫ হেক্টর, শার্শায় ১ হাজার ৬৯৫ হেক্টর ,ঝিকরগাছায় ২ হাজার ১০ হেক্টর, চৌগাছায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর, কেশবপুরে ১ হাজার ১০ হেক্টর, মণিরামপুরে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, অভয়নগরে ৫৫০ হেক্টর ও বাঘারপাড়ায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভরা শীত মৌসুমে সবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পায়; সে কারণে দাম একটু কমে। বাজারে প্রচুর শাক-সবজি রয়েছে।’
এদিকে আজ সকালে যশোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টি সবজির জন্যে বিশেষ উপকারী বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
যশোর বিমান বাহিনীর মতিউর রহমান ঘাঁটি আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত যশোরে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৪ মিলিমিটার। রাত ১০টার পর আবারও বৃষ্টি হতে পারে।
বারীনগর এলাকার কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, এমন বৃষ্টিতে সবজির তেমন কোনও ক্ষতি হয় না বরং ফলন ভালো হয়। তবে বৃষ্টি যদি একটু বেশি হয় সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র সরকার বলেন, ‘অল্প বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি না হলেও সবজিতে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।’