নবজাতকের লাশ উত্তোলন

বাগেরহাটস্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের ও মাটিচাপা দেওয়া নবজাতকের লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারীতে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

চিতলমারী থানার পরিদর্শক মীর শরিফুল হক জানান, কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও নবজাতক হত্যার ঘটনায় চিতলমারী থানায় একটি মামলা (নম্বর-১) দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চিতলমারী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এতে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বড়বাক গ্রামের রবীন সরকারের ছেলে সাধন সরকার ও একই গ্রামের বিজয় বিশ্বাসের ছেলে দিপঙ্কর বিশ্বাসকে আসামি করা হয়েছে। বিবাহিত সাধন সরকার ও দিপঙ্কর বিশ্বাসের একজন করে সন্তানও রয়েছে। পেশায় তারা দুজনই নির্মাণ শ্রমিক।

ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস আগে প্রতিবেশী সাধন সরকার ও দিপঙ্কর বিশ্বাস তার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়ে বিষয়টি গোপন রাখে। পরে সে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লেও তারা তা বুঝতে পারেনি। গত রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সাধন সরকার ও দিপঙ্করসহ কয়েকজন তার মেয়েকে নিয়ে গোপালগঞ্জে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফিরে এলে দেখেন মেয়ে অসুস্থ। কারণ জানতে চাইলে মেয়ে মা-বাবার কাছে ঘটনা খুলে বলে। মেয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মেয়েটির বাবার অভিযোগ, সাধন সরকার ও দিপঙ্কর বিশ্বাস ভয় দেখিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। প্রায় পাঁচ মাস বয়সী নবজাতক ছেলেকে তাদের বাড়ির উঠানের পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ছাত্রীর স্কুলের সহকারী শিক্ষক কামরুজ্জামান খান পিকলু জানান, অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর ওপর অত্যাচার করে ওরা বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফুল আলম বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের জন্য নবজাতকের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। লাশ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ ছাত্রীর চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’

নবজাতকের লাশ উত্তোলনের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুন হাসান মিলন, থানার পুলিশ পরিদর্শক মীর শরিফুল হক, সংশ্লিষ্ট শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান কাকা মিয়াসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।