সুন্দরবন একাডেমি খুলনার নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতরে বনকর্মী ও অস্ত্র সুরক্ষার জন্য ভবন প্রয়োজন। এসব পরিত্যক্ত ভবন দিয়ে কাজ হবে না। এগুলো ভেঙে ফেলাই ভালো। না হলে ওইসব ভবন দস্যুদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, তার আওতাধীন এলাকায় সিডরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৮৭টি ভবন, ৫৩টি জলযান, দু’টি ওয়্যারলেস টাওয়ার ও ৪৭টি জেটি। আর আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ৫১টি ভবন, ২৫টি জেটি ও ২৮টি জলযান। এর মধ্যে কিছু সংস্কার ও কিছু নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ১৭টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল আজম ডেভিট বলেন, ট্যুর অপারেটররা প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকদের নিয়ে দুবলা, কটকা, কচিখালীসহ সুন্দরবনের গহিনে যাতায়াত করছেন। বনের গহিনের এসব এলাকা এমনিতে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিটি ঘাটে নামার আগেই পর্যটকদের সাবধান করা হয়। বনের ডালপালা, ফুল-ফল ছিঁড়তেও নিষেধ করা হয়। পরিত্যক্ত ভবনে বিষাক্ত প্রাণী থাকার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে পর্যটকদের সাবধানও করা হয়। সেখানে কাউকে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। রাতে দস্যুরা অবস্থান নিতে পারে। সেটা দেখার জন্য বনকর্মীরা রয়েছেন।
বনকর্মী মনোয়ার আলী বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে প্রতি রাতে নজরদারি করা হয়।
র্যাব-৬ এর পরিচালক মেজর আনিসুজ্জামান বলেন, সুন্দরবন এখন দস্যুমুক্ত। তারপরও এখানে র্যাবের নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারিও রয়েছে। আর বনবিভাগের পরিত্যক্ত ভবনে দস্যুদের অবস্থান নেওয়া সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। তবুও র্যাব ভবনগুলো নজরদারি করছে।
র্যাব-৮ এর পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম বলেন, দস্যুমুক্ত সুন্দরবনে যাতে ফের দস্যু তৎপর না হতে পারে সেজন্য কঠোর নজরদারি করাসহ গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। পরিত্যক্ত ভবনগুলোও নজরদারিতে রয়েছে।