জেলেদের টাকা ফেরত দিলেন সেই বন কর্মকর্তা

ভুক্তভোগী জেলেরা (সামনে)সুন্দরবনে জেলেদের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায়ের পর অবশেষে সেই টাকার আংশিক ফেরত দিয়েছেন সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি (বন কর্মকর্তা) রবিউল ইসলাম। গত সোমবার জেলেদের ৬০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন তিনি। খুলনা বন সংরক্ষক কার্যালয়ের নিচে চাঁদপাই বন ব্যবস্থাপনা কমিটির (সিএমসি) সদস্য ওবায়দুলের মধ্যস্থতায় তিনি ওই টাকা ফেরত দেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জেলে নির্মল, আল আমিন ও আলমগীর টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

অভিযোগ আছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওসি রবিউল হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে জেলে ইয়াসির সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, শ্যামল সর্দারের কাছ থেকে ৩০ হাজার, নির্মল রায়ের কাছ থেকে ৪০ হাজার এবং রমেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন। জলদস্যুদের হাতে জিম্মি আছে বলে এসব জেলেদের বাড়িতে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেন রবিউল। তবে সে সময় ওসি রবিউল দাবি করেছিলেন, তিনি কোনও জেলেকে আটক করেননি বা কোনও জেলের কাছ থেকে টাকাও নেননি। এ ঘটনায় অনলাইল নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এদিকে, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে কল করা হলে রবিউলের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. সোহাগ সালেহ বলেন, ‘জেলেদের কাছ থেকে পুরো ঘটনা শুনেছি। টাকা ফেরতের বিষয়টিও শুনেছি। ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন বলেন, ‘তদন্ত করে ওসি রবিউলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন ও ঢাংমারি স্টেশন থেকে বনের অভ্যন্তরীণ খালে সাদা মাছ ধরার জন্য পাস পারমিট (বনবিভাগের অনুমতিপত্র) নিয়ে পাঁচটি নৌকাসহ তারা মাছ ধরতে যান। পরে পশ্চিম সুন্দরবনের ভদ্রা ক্যাম্পের ওসি রবিউল এবং ওই ক্যাম্পের ট্রলার মাঝি বাদশা তাদের ১০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে ক্যাম্পে আটকে রাখেন। অবৈধভাবে বনের ভেতরে মাছ শিকারের দোহাই দিয়ে তাদের কাছে ওসি রবিউল দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু জেলেরা তাদের বনবিভাগ কর্তৃক পাসপারমিট দেখালে আরও ক্ষীপ্ত হন ওসি। এ সময় জেলেদের পাঁচটি নৌকায় থাকা সাড়ে তিন মণ কোরাল, কাইন ও জাবাসহ কয়েক প্রকার সাদা প্রজাতির মাছ ওসি রবিউল ছিনিয়ে নেয় বলেও জেলেরা অভিযোগ করেন।

পরে ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে ১৫ হাজার এবং ২টা ৩৬ মিনিটে আরেকটি বিকাশ নম্বরে ১২ হাজার ২৫০ টাকা নেওয়া হয়। ওসির চাহিদা অনুযায়ী, এক লাখ ৩০ হাজার টাকার বাকি টাকা ভদ্রা ক্যাম্পের ট্রলার মাঝি বাদশার স্ত্রীর মাধ্যমে নেন বলেও জেলেরা অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন...


জেলেদের আটকে নির্যাতন ও টাকা আদায়ের অভিযোগ বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে