কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ফুলচাষি এস এম টিপু সুলতান জানান, গত দেড় মাস ধরে ফুল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও পহেলা বৈশাখে তারা ফুলের বাজার ধরতে পারেননি। এসব দিবসে ফুল বিক্রি বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে ফুল বিক্রি হয়নি।
তিনি আরও জানান, আড়াই বিঘা জমিতে গোলাপ, সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে জারবেরা, আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্টা ফুল, দুই বিঘা জমিতে গ্লাডিওলাস, দুই বিঘা জমিতে চন্দ্রমল্লিকাসহ প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে ফুলের আবাদ করেছেন তিনি। প্রতিমাসে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ফুল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হতো। কিন্তু এখন প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুল। ইতোমধ্যে তিনি গ্লাডিওলাস, গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা ফুলের গাছ কেটে ফেলে দিয়েছেন। শুধুমাত্র লিলিয়াম ফুল ও কিছু গোলাপ ফুল গাছ এখনও জমিতে রয়েছে। গোলাপ ফুল গাছেই শুকিয়ে যাচ্ছে। লিলিয়াম ফুল তুলে ফেলে দিচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে। এদিকে জমির পরিচর্যায় আর শ্রমিকদের বেতন দিতে প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে দেড় লাখ টাকা।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদুল করিম বিষয়টি স্বীকার করে জানান, করোনার কারণে উপজেলার ১৩০ হেক্টর জমির ফুল নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এতে কারও কোনও হাত নেই। তবে তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য সরকার যে প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, সেখান থেকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।