জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবন করে চমক লাগিয়ে দিতেন রিয়াজুল। ১৫ বছর আগে স্কুলে পড়াকালীন বাইসাইকেলে মোটর লাগিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। কলেজ জীবনে স্যালোমেশিন দিয়ে ডিজেলচালিত মোটরসাইকেল উদ্ভাবন করেন। এরপর ২০১৯ সালে তার মাথায় আসে প্রাইভেটকার তৈরির ভাবনা। যেই ভাবনা, সেই কাজ। মোটরসাইকেলের পুরনো ইঞ্জিন, ইজিবাইকের চাকা এবং প্রাইভেটকারের সিট ও স্টিয়ারিং দিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেন ল্যাম্বরগিনির আদলের একটি পাইভেটকার। কারটির শুধু কাঠামো তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছেন তিনি। অফিসের ব্যস্ততার কারণে এখনও বডি তৈরি সম্পন্ন করতে পারেননি।
উদ্ভাবক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু তৈরি নিয়ে সারাক্ষণ ভাবতাম। ২০১৯ সালে কার তৈরির চিন্তা মাথায় আসে। কিছুদিন পরেই কাজে নেমে পড়ি। মোটরসাইকেলের পুরনো ইঞ্জিন, ইজিবাইকের চাকা এবং প্রাইভেটকারের সিট ও স্টিয়ারিং দিয়ে এলাকার এক ভাইয়ের ওয়ার্কশপে তৈরি করেছি পাইভেটকারটি। তবে এখনও পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। দ্রুতই কাজ সম্পন্ন করবো।'
তরুণ এই উদ্ভাবক বলেন, 'আমার বাবা ১৯৭১ সালে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। আমিও দেশের জন্য কিছু করতে চাই। অনেকেরই প্রাইভেটকারে চড়ার শখ থাকে। কিন্তু টাকার অভাবে কিনতে পারেন না। তারা যেন আমার উদ্ভাবিত অল্প টাকার এই প্রাইভেট কিনে শখ পূরণ করতে পারেন, এ জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।’
রিয়াজুলের বাবার বন্ধু ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মসজিদের ইমাম এহসানুর রহমান বলেন, 'রিয়াজুলকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। স্কুলে পড়াকালীন থেকেই ওর মধ্যে উদ্ভাবনের নেশা দেখেছি।’
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, 'ওই উদ্ভাবককে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা কার নিয়ে উপজেলা চত্বরে ঘুরে বেড়াতে দেখি। গত সপ্তাহে তার কারের ছোট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছিলাম। মুহূর্তে ৫০ হাজার মানুষ সেটি দেখেছে।’
দেখুন ভিডিও...