ঘোষণা হলেও লকডাউন কার্যকর হয়নি রেড জোনে

রেড জোন ঘোষিত এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক



যশোরের ১৭টি রেড জোনে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে লকডাউন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এমনকি প্রশাসন থেকে রেড জোন ঘোষিত এলাকাগুলোয় কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে মানুষের চলাচল ছিল স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্টদের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করে প্রচারসহ রেড জোন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কার্যকর করতে দু-একদিন সময় লাগবে।


যশোরে করোনা সংক্রমণের এলাকাভিত্তিক সংখ্যা বিবেচনায় সোমবার (১৫ জুন) পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবং শহরতলীর উপশহর ও আরবপুর ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়। এর বাইরে জেলার আরও ৫টি পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ড এবং ৪টি ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করে যশোরের জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। এসব এলাকাগুলোয় মঙ্গলবার সকাল থেকে লকডাউন কার্যকরের নির্দেশনা ছিল। কিন্তু তা বাস্তবে হয়নি।

আরবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি আমাদের ইউনিয়ন রেড জোন হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রেড জোন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রচার শুনিনি। সেকারণে মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। সংক্রমণরোধে প্রচার খুবই জরুরি।’ 

রেড জোন ঘোষিত এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক
উপশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন,  ‘রেড জোন ঘোষণা হয়েছে ফেসবুকে দেখেছি। এলাকায় প্রচার চালানো হয়নি। ফলে মানুষ সকাল থেকেই যে যার কাজে বের হয়েছেন। মাস্ক পরে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। যেহেতু রেড জোন ঘোষণা হয়েছে তাই কড়াকড়ি আরোপ জরুরি।’ 
আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম বলেন,  ‘রেড জোনের ব্যাপারে ঠিকভাবে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তাছাড়া রেড জোন এবং লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গেলে জেলা প্রশাসনের সহায়তা খুব জরুরি। কারণ অন্তত ৫০টি পয়েন্ট দিয়ে আমার ইউনিয়নে প্রবেশ করা যায়। এসব পয়েন্টে প্রশাসনের লোক দিতে হবে। লকডাউন ঘোষণা দিলে দরিদ্র মানুষের খাবার জন্য ঘরের বাইরে চলে আসবে। তাদের ঠেকানো কষ্টকর হয়ে যাবে।’ 
উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে মাত্র দু’জন রোগী। কীভাবে রেড জোন ঘোষণা হলো বুঝলাম না। তাছাড়া আমার এলাকাসহ যেসব এলাকা রেড জোন ঘোষণা হয়েছে, সেখানে সরকারি অফিস রয়েছে। সেগুলো বন্ধের নির্দেশনা কে দেবে। ইউনিয়ন পরিষদ তো সেটা বলার অধিকার রাখে না।’ 

রেড জোন ঘোষিত এলাকায় চলাচল স্বাভাবিক
তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধিদের সভার জন্য ডেকেছেন। সেখানে বাস্তবতা তুলে ধরা হবে। সভাশেষে রেড জোন কার্যকর করার বিষয়ে প্রচারসহ সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে রেড জোন কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু কর্মপন্থা নির্ধারণে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা চলছে। সভাশেষে বিকেল থেকে প্রচারসহ রেড জোন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 
এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শফিউল আরিফ বলেন, প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করছেন। ফলে রেড জোন কার্যকর হতে আরও দুই একদিন সময় লাগবে।