তিনি জানান, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম শফিউল্লাহ বলেছেন উচ্চ আদালতের নির্দেশের পর আসামিদের ধরতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তৎপর হয়। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করে। এতে আসামিরা ভয় পেয়ে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। এরপর পুলিশ তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
জানা গেছে, গত ১৭ মে ওই ৫ জন ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়। জামিন জালিয়াতির বিষয়টি টিপু শেখের পরিবার থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে অবহিত করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আনেন। এরপর আদালত থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে আসামিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। আর আত্মসমর্পণ না করলে তাদের গ্রেফতার করার জন্য বলা হয়েছিল।
একইসঙ্গে আসামিদের আইনজীবী আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এই মর্মে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। এছাড়া ওই আইনজীবীকে সব ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। গত ১০ জুন জামিন জালিয়াতির বিষয়টি নজরে আনার পর বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিঘলিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে ইট দিয়ে টিপু শেখের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে কুপিয়ে এক পা বিচ্ছিন্ন ও অপর পায়ের অর্ধেক বিচ্ছিন্ন করে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঘাতকরা। স্থানীয়রা টিপু শেখকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় টিপু শেখের বাবা আলমগীর শেখ বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানায় ৩২ জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মামলা করেন।