করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বড় বাজারের যানজট লেগেই রয়েছে। মোটরসাইকেল পার্টস মার্কেটের প্রবেশ মুখে বড় করে ‘মার্কেট বন্ধ’ লেখা ঝুলিয়ে বাঁশ দিয়ে গলির মুখ আটকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দোকানদার ও ক্রেতারা অনায়াসেই বাঁশ ঘেরার ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করছেন।
ডাকবাংলা মোড়ে পুলিশ একাধিক মোটরসাইকেল থামিয়ে চালকদের বাজারে যাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন। ম্যাজিস্ট্রেট ধরলে ২-৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে বলেও তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বাজারের প্রতিটি দোকানের সামনেই ব্যবসায়ীদের মোটরসাইকেল সারি সারি রাখা রয়েছে।
মোটরসাইকেল পার্টস গলি মুখে পাওয়া আজিম শেখ বলেন, ‘প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী ২৫ জুন পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে। তাই আমরাও কৌশল নিয়ে সামাজিক দূরত্ব ঠিক রেখে হালকা বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব পালনের একটি মহড়া হচ্ছে। যাতে ২৬ জুন থেকে দোকান বন্ধের ঘোষণা আর না বাড়ানো হয়।’
ডাকবাংলা মোড়ের হার্ডমেটাল গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীরা জানান, দু-একজন কাস্টমার পেলে কমিশন ভিত্তিতে টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া বেচাকেনা না হলে তো মালিক বেতন ভাতা দেয় না। এখন করেনার মধ্যে তাই কমিশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ কমিশন পেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এভাবেই ক্রেতা খুঁজতে হচ্ছে।
খুলনায় করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির গত ২২ জুনে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২৬ জুন থেকে খুলনার শপিং মল, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে ৩ দিন (রবি, সোম ও মঙ্গলবার) বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, ২৬ জুন থেকে সপ্তাহে ৩দিন শপিং মল দোকান পাট খুলে দেওয়া হলেও প্রশাসনের মনিটরিং থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব পালনের বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, জনসাধারণের যথেচ্ছ চলাচলের কারণে খুলনায় করোনা রোগী বেড়েই চলছে। সরকারে নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন ও সামাজিক দূরত্ব ঠিক মতো মানতে পারলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।